আজ শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতীপূজা ।
আজ শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতীপূজা ।   ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতীপূজা । শাস্ত্র মতে, এ দিনটিতে দেবী সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। দিনটিকে বলা হয় ‘বসন্ত পঞ্চমী’। 

সরস্বতী দেবী শ্বেতশুভ্রবসনা। আর দেবীর এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা। এ জন্য তাঁকে বীণাপাণিও বলা হয়। প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারতসহ নানা সাহিত্যকর্মে দেবী সরস্বতীর বিভিন্ন কাহিনি ও রূপের বিবরণ পাওয়া যায়। সরস্বতী জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী হিসেবে পরিচিত। 

শাস্ত্রমতে, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর বন্দনা করা হয়। ভক্তরা, বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মন্দিরে সরস্বতীপূজার আয়োজন করেন।  আজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ দেবী সরস্বতীর বন্দনায় ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে।

আজ মধ্যরাত ২টা ৫৮ মিনিটে শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি শুরু হয়েছে, যা আগামীকাল শনিবার রাত ২টা ১৬ মিনিটে শেষ হবে।

সরস্বতীপূজার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠ।  এরই মধ্যে পূজা উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।  জগন্নাথ হলে পূজামণ্ডপের মূল আকর্ষণ চারুকলার শিক্ষার্থীদের নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সরস্বতী প্রতিমা।

ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে দেবীর আরাধনা হবে। এ ছাড়া সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতিবাজার, বনানী, জাতীয় প্রেস ক্লাব, রমনা কালীমন্দিরসহ মণ্ডপে মণ্ডপে সরস্বতীপূজার আয়োজন চলছে। সব জায়গাতেই সকালে পূজার আয়োজন হবে। বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত আরতি ও অন্যান্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে এই পূজা ঘিরে ঢাকঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ। 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সরস্বতীপূজা উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এ দেশে জাতি, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। এ দেশ আমাদের সবার। ধর্ম ও বর্ণভেদে নয়, বাংলাদেশ সব মানুষের জন্য এক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ আবাসভূমি।’

এমআর/আরটিএনএন