যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য, ভিসা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশিরাও একধরনের আতঙ্কে ভুগছেন।   ফাইল ছবি

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন (ইমিগ্রেন্ট) ভিসা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশির স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। খবর বিবিসি বাংলার।

এই সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা পরিকল্পনা কার্যত থমকে গেছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে মার্কিন প্রশাসন কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি। এতে প্রবাসীদের মধ্যে বাড়ছে উৎকণ্ঠা ও মানসিক চাপ। এমনকি বৈধভাবে গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশিরাও একধরনের আতঙ্কে ভুগছেন। কারণ ট্রাম্প প্রশাসন আগের দেওয়া গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পুনর্মূল্যায়নের ঘোষণাও দিয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের পেছনে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। তাদের দাবি, অনেক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর কাজ না করে সরকারি সহায়তা বা জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা দেশটির অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেন। ফলে এখন থেকে নতুন করে অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আর্থিক সামর্থ্য আরও কঠোরভাবে যাচাই করা হবে। আগে যারা আত্মীয়স্বজনকে স্পন্সর করে যুক্তরাষ্ট্রে এনেছেন এবং তারা যদি সরকারি সুবিধা ভোগ করে থাকেন, তাহলে সেই দায় স্পন্সরের ওপর বর্তাতে পারে। পর্যাপ্ত আয় না থাকলে বা সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনাকারীদের জন্যও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজার যে নির্দিষ্ট সময় পাওয়া যেত, সেটি পাওয়ার প্রক্রিয়া এখন আরও কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, ভিসা স্থগিতের কারণে তাঁদের দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় কাটাতে হবে। বর্তমানে যাঁরা গ্রিন কার্ডধারী হয়েও ছুটিতে বাংলাদেশে আসতে চান, তাঁরাও দ্বিধায় ভুগছেন। একবার দেশ ছাড়লে আবার যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন—এই ভয় কাজ করছে তাঁদের মনে।

তবে এই স্থগিতাদেশ কেবল অভিবাসন বা ইমিগ্রেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পর্যটন, ব্যবসায়িক ভ্রমণ ও শিক্ষার্থীদের জন্য নন-ইমিগ্রেন্ট ভিসা এর আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ দর্শনার্থী বা বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের চলাচলে এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা ভিসার জন্য আবেদন ও সাক্ষাৎকার দিতে পারলেও, স্থগিতাদেশ চলাকালীন নতুন কোনো অভিবাসন ভিসা ইস্যু করা হবে না। পাশাপাশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ–ওয়ানবি ভিসার খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ আরও সীমিত করে দিয়েছে।

এমকে/আরটিএনএন