নিপাহ ভাইরাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
নিপাহ ভাইরাস   ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে যে, বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নওগাঁ জেলায় এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে সংস্থাটি মনে করে, আন্তর্জাতিকভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এখনো কম। শুক্রবার ডব্লিউএইচও জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি হাসপাতালে ভর্তির পর ওই রোগীর মৃত্যু হয়। সেখানে একটি দল তাঁর গলার সোয়াব ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে। পরদিনই ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “২০২৬* সালের ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (IHR NFP) রাজশাহী বিভাগে নিপাহ ভাইরাস (NiV) সংক্রমণের একটি নিশ্চিত কেস সম্পর্কে ডব্লিউএইচও-কে অবহিত করে।”

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে দুটি সংক্রমণের ঘটনা নিশ্চিত হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পর এই ঘোষণা এল। সেখানে কর্তৃপক্ষ এই মারণ ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং তারা বলছে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, যার ফলে বিমানবন্দরগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তবে ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বর্তমান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা কোনো ভ্রমণ বা বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করছে না।

সংস্থার মূল্যায়নে বলা হয়েছে, “জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে নিপাহ ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কম বলে মনে করছে ডব্লিউএইচও।” এতে আরও বলা হয়, “আন্তর্জাতিকভাবে রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও কম বলে বিবেচিত হচ্ছে।”

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী ওই নারী গত ২১ জানুয়ারি প্রথম জ্বর ও স্নায়বিক উপসর্গ অনুভব করতে শুরু করেন। ওই রোগীর কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না, তবে তিনি সম্প্রতি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। তার সংস্পর্শে আসা আরও ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তবে নতুন করে কারও শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৩৪৮ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই আক্রান্তদের কাঁচা খেজুরের রস পানের ইতিহাস নিশ্চিত হওয়া গেছে। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে মৌসুমি ভিত্তিতে এই প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। ডব্লিউএইচও-র মতে, এই সময়টা খেজুরের রস সংগ্রহ ও পানের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।

বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে এই সংক্রমণের জন্য নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই এবং আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি, যা ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশের মধ্যে হয়ে থাকে। গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম ঘেব্রেইয়েসুস নিপাহকে একটি “বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ” হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, “কর্তৃপক্ষ রোগের ওপর নজরদারি ও পরীক্ষা বাড়িয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে এবং কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখা যায় সে সম্পর্কে জনগণকে অবহিত রাখছে।”

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই