চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলসহ চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগ্রাম পরিষদের দুই সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন। এবারের কর্মসূচিতে বন্দরের বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর অচল হয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতা হুমায়ন কবীর ও সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন জানান যে, বৃহস্পতিবার নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন দেখা যায়নি।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে গত শনিবার থেকে আট ঘণ্টা করে তিন দিন এবং মঙ্গলবার থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করে আসছিল সংগঠনটি। বৃহস্পতিবার নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার আগমনের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে কর্মসূচি দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।
আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ১৬ জন কর্মচারীকে অন্য বন্দরে বদলি করা এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রমিক নেতাদের দুর্নীতির তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানোর ঘটনায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন যে, আগের কর্মবিরতিতে বহির্নোঙরের কাজ চললেও রোববারের ধর্মঘটে বন্দরের ভেতরে ও বাইরে সব ধরনের পণ্য খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পেলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ও রোজার পণ্য খালাসের কথা বিবেচনা করে আমরা লাগাতার কর্মবিরতি কর্মসূচি স্থগিত করেছিলাম। তবে বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলনকারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ তদন্তের জন্য বন্দর চিঠি দেয়। এই পদক্ষেপ নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যান (রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান) পরিস্থিতি উত্তপ্ত করেছেন। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আবার লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না।’
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবির মধ্যে রয়েছে—এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে লিজ না দেওয়ার বিষয়ে সরকার কর্তৃক ঘোষণা দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের নেতা মোহাম্মদ হারুন, তসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা, জাহিদ হোসেন, হারুন, ইমাম হোসেন খোকেন, শরীফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন ।
এমআর/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!