সারাদেশ, চাপাইনবাবগঞ্জ, ভূমিদস্যু,
মানববন্ধন করেন জমির মালিকেরা।   ছবি: সংগৃহীত

চাঁপাইনবাবগঞ্জের চৌডালায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক জমি দখল ও মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে এবং ভূমিদস্যুর বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ ) দুপুরে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা মাদরাসা মোড়ে ভুক্তভোগী জমির মালিক ও এলাকাবাসী এ মানববন্ধন করেন।

বক্তারা বলেন, এলাকার ভূমিদস্যু খ্যাত শাহ আলম ওরফে কাজল ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন মানুষের জমিজমা দখল করছেন। বাধা দিতে গেলে তার গুন্ডাবাহিনী হামলা ও মারধর করে। এমনকি জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। এতে ভুক্তভোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বক্তারা জমি দখলকারী ভুয়া ক্যাপ্টেনের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করেন। তারা আরও বলেন, গোমস্তাপুর থানার এএসআই সাইদুরের সঙ্গে যোগসাজশ করে এসব অপকর্ম করছেন শাহ আলম ওরফে কাজল। যাদের জমি দখল করা হয়েছে, উল্টো তাদেরই হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে হয়রানি করছেন এএসআই সাইদুর। এ নিয়ে জমির প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে শাহ আলম ওরফে কাজল তিনটি মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

মানববন্ধনে বক্তারা জানান, এখন পর্যন্ত চৌডালা ইউনিয়নের মাদরাসা মোড় এলাকার শরিফুল ইসলামের ৭ কাঠা, রোকনের সাড়ে ১৩ কাঠা, জোসনা বেগমের ২ কাঠা, আব্দুর রাজ্জাকের ৯ কাঠা এবং বাঘমারার তুহিনের সাড়ে ৩ কাঠা জমি দখল করেছেন শাহ আলম ওরফে কাজল। ঘণ্টাব্যাপী চলা মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বদিউর রহমান, আব্দুল মতিন, তুহিন, জোসনা খাতুন, সাইদুর রহমানসহ অন্যান্যরা।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ক্যাপ্টেন পরিচয়দানকারী শাহ আলম ওরফে কাজলকে পাওয়া যায়নি। তার এসব জমি দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আপন মামা তাজেমুল হক বলেন, “আমার ভাগনে নিজে ক্যাপ্টেন পরিচয় দেয় না, লোকে তাকে ক্যাপ্টেন বলে ডাকে। সব জমি কাগজপত্রের ভিত্তিতেই দখলে নেওয়া হয়েছে। কোনো জোরপূর্বক দখলের ঘটনা নেই।”

গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এ বিষয়ে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে তা বাস্তবায়ন করা হবে। তবে এএসআই সাইদুরের কোনো পক্ষপাতমূলক আচরণ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।