হত্যাকাণ্ড
ক্লুলেস হত্যা মামলার আসামী গ্রপ্তার ।   ছবি: আরটিএনএন

তিন বছর পূর্বে সংঘটিত ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই হবিগঞ্জ। ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা আসামীকে গ্রেপ্তার এবং আদালতে আসামীর দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব মোঃ হায়াতুন-নবী সংবাদ মাধ্যম আরটিএনএনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২০২৩ সালের ২৬ জুন রাত আনুমানিক ৮টার পর হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেগরিয়া ইউনিয়নের শিয়ালদারিয়া গ্রামের মহিবুর (২৫) নিখোঁজ হন। পরদিন দুপুরে বাড়ির পাশ্ববর্তী ডোবায় তার মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা সনাক্ত করেন। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নং–০১, তারিখ–০১০৭২০২৩ খ্রিঃ, ধারা–৩০২২০১৩৪ পেনাল কোডে মামলা রুজু হয়। প্রায় ছয় মাস পর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআইয়ের তদন্তকারী দল ধারাবাহিক ও নিবিড় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, ফজল (২৭) এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। হত্যার পর আসামি প্রায় তিন বছর রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিল।

দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পিবিআই গত ২৭/০২/২০২৬ খ্রিঃ তারিখে ঢাকার আবদুল্লাপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। 

জানা যায় যে, আসামি ফজলের পিতার কুলখানিসিন্নির অনুষ্ঠানের দিন ভিকটিমের পিতা আতর আলীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও বিরোধের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরে ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে আসামি। সুযোগ বুঝে টিউবওয়েলের লোহার রড দিয়ে মহিবুরের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে তাকে হত্যা করে এবং মরদেহ পাশ্ববর্তী খালে ফেলে আত্মগোপনে চলে যায়।