‘মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক অপবাদ দিতেই ঢাবির প্রথম শহিদকে মুছে ফেলা হয়েছে’
‘মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক অপবাদ দিতেই ঢাবির প্রথম শহিদকে মুছে ফেলা হয়েছে’   ছবি: আরটিএনএন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহিদ শহিদ নজির আহমদের নাম ও ইতিহাস ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। তার দাবি, বাংলাদেশের মুসলমানদের ওপর উগ্র হিন্দুদের দ্বারা সংঘটিত সাম্প্রদায়িক নির্যাতন-নিপীড়নের ইতিহাস ধামাচাপা দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যাতে উল্টো মুসলমানদেরই সাম্প্রদায়িক হিসেবে অপবাদ দেয়া যায়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী শহিদ নজির দিবস’ উপলক্ষে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খোমেনী ইহসান বলেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে প্রায় ১৯০ বছর ধরে এ অঞ্চলের মুসলমানরা ইংরেজ শাসক ও হিন্দু জমিদারদের দ্বারা ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক শোষণ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সে সময় মুসলমানরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করতে পারতো না। ইসলামী নাম রাখা, দাড়ি রাখা, এমনকি টুপি-পাঞ্জাবি-লুঙ্গি পরাও ছিল বাধাগ্রস্ত। দীর্ঘ সেই দমন-পীড়নের অবসান ঘটে মুসলিম পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। তবে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত মুসলমানরা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও হামলা থেকে মুক্তি পায়নি।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র চার বছর আগে, ১৯৪৩ সালেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুসলিম বিরোধী সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সে সময় বন্দে মাতরম গান ও পূজা অর্চনার পরিবর্তে মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে নবীন বরণের দাবি জানানোয় মুসলিম ছাত্র নেতা শহিদ নজির আহমদকে উগ্র হিন্দুরা ক্লাসরুমে ঢুকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। অথচ এই নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং মুসলমানদের ওপর সংঘটিত সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস আজ পরিকল্পিতভাবে আড়াল করা হচ্ছে।

খোমেনী ইহসানের অভিযোগ, নিজেদের ‘অসাম্প্রদায়িক’ হিসেবে জাহির করার তাগিদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ কোনো রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শহিদ হওয়ার পরও শহিদ নজির আহমদকে রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্মরণ করে না। এর মাধ্যমে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ঐতিহাসিক নিপীড়নের সত্যকে চাপা দেয়া হচ্ছে।

তিনি শহিদ নজির আহমদকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করার জোর দাবি জানিয়ে বলেন, যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, আগামী বছরের ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘শহিদ নজির দিবস’ পালন করতে হবে। একই সঙ্গে তার হত্যাকাণ্ডসহ ঔপনিবেশিক আমলে মুসলমানদের ওপর সংঘটিত নির্যাতন ও নিপীড়নের ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।

আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম ও গালীব ইহসান, সদস্য সাইদুল ইসলাম, হাবিবুল্লাহ মারজান ও শফিকুর রহমান। এছাড়া বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব ফজলুর রহমান, সহকারী সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, আবু বকর ও জিহাদী ইহসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সদস্য সচিব নিয়াজ আহমদ ও সদস্য আল আমিন শেখ উপস্থিত ছিলেন। সরকারী মাদরাসা-ই-আলিয়া শাখার আহ্বায়ক মো. রাকিব মন্ডল, সদস্য সচিব মো. জিনাত হোসাইন এবং সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব শরিফ খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।