চারজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার শিক্ষাবিদ হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এফ. এম. ইউসুফ হায়দার, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম এবং ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান।
নিয়োগ অনুযায়ী, এই চারজন শিক্ষাবিদ স্ব স্ব বিভাগের সঙ্গে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসাবে সংযুক্ত থাকবেন। নিজ একাডেমিক ক্ষেত্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা উন্নয়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রমে পরামর্শ দেবেন। তারা অবসর গ্রহণের আগে অধ্যাপক হিসাবে যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সুবিধা ব্যতীত সেসব সুবিধা প্রাপ্য হবেন। এছাড়া তিনি গবেষণা ও প্রকাশনার জন্য পাঠাগার ব্যবহার, সেক্রেটারিয়াল সহায়তা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ একজন শিক্ষাবিদ, মানববিজ্ঞানী ও লেখক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুদীর্ঘ ৪২ বছর শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অসংখ্য গবেষণা প্রবন্ধসহ প্রায় ২৪টি গ্রন্থ রচনা করেছেন।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ভিজিটিং প্রফেসর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ইউজিসির পূর্ণকালীন সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ভারত ও যুক্তরাজ্য থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বাহরাইনে রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।
অন্যদিকে অধ্যাপক ইউসুফ হায়দার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, সেমিকন্ডাক্টর টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং সূর্য সেন হলের প্রভোস্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
উপ-উপাচার্য থাকাকালে অধ্যাপক হায়দার সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন সায়েন্সেস (কারস) প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে আধুনিক অপটিক্স ও লেজার গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন।
১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন ড. হাসান। দীর্ঘ একাডেমিক জীবনে তিনি ১৯৯২ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন হিসেবেও দুই মেয়াদে (১৯৯৯-২০০৩) নির্বাচিত হন।
একাডেমিক দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওষুধ প্রশাসনের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া ২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান এবং ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিলেন। জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণয়নে ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসানের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশেষজ্ঞ কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় ওষুধ নীতিতে এবং ওষুধ অধ্যাদেশে ‘ভেষজ ঔষধ’ অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ড. তাজমেরী এস ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সাবেক শিক্ষক এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন ও রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ছিলেন। রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এর আগে, ঢাবি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ৯ জন শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োজিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. এ.এফ. এম. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান, অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, অধ্যাপক ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী প্রমুখ।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!