ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) প্রাণী কল্যাণমূলক একটি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে এক নারী জুনিয়র শিক্ষার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্র ইউনিয়নের এক নেত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত নেত্রীর নাম মিশকাতুল মাশিয়াত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভ্যালনারিবিলিটি স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী এবং গত ডাকসু নির্বাচনে বাম জোটের ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’ প্যানেল থেকে কার্যকরী পরিষদের সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম আতিকা ইবনাত সিনহা। অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাবির অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার টিমের একটি ব্যানার প্রিন্টিং এবং ক্যাম্পাসের একটি বিড়ালের ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনকে কেন্দ্র করে গত ১ ফেব্রুয়ারি এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘদিন ধরে উভয়েই ক্যাম্পাসে কুকুর-বিড়ালসহ অন্যান্য প্রাণীর অধিকার রক্ষায় কাজ করে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী আতিকা ইবনাত সিনহা ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে জানান, ক্যাম্পেইন চলাকালে ব্যানার প্রিন্টিং ও একটি ক্যাম্পাস বিড়ালের ভ্যাকসিনেশন নিয়ে ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী মিশকাত তানিশার (মিশকাতুল মাশিয়াত) সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে টিএসসি এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে বের হওয়ার সময় চলন্ত অবস্থায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আতিকার ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার টিমের সভাপতি সাবরিনা সাব্বিরসহ অন্যান্য সদস্যরা হস্তক্ষেপ করে তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরে যেতে সহায়তা করেন। পরে তিনি আজিমপুরে নিজের বাসায় ফিরে যান। তবে সেদিনই তার পরিচিত এক নারী শিক্ষার্থী দ্বীনার মাধ্যমে তাকে ফোন করে মানসিক চাপ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তীতে রাতুল চৌধুরী, রেজওয়ান দেওয়ান, মিশকাত তানিশাসহ আরও কয়েকজন তাকে ঘিরে ধরে গালাগাল ও হুমকি দেন বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী। এ সময় তার মোটরসাইকেল ভাঙচুরের হুমকিও দেয়া হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগে আরও বলা হয়, এর কিছু সময় পর আজিমপুরে তার বাসার নিচে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেখানে তাকে চুল ধরে টানা হয়, চড়-ঘুসি ও লাথি মারা হয় এবং একপর্যায়ে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও ট্রাফিক পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্য দিবালোকে তার মোটরসাইকেলের চাবি ছিনিয়ে নিয়ে বাইকটি নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন আতিকা।
ঘটনার পর প্রক্টরিয়াল টিম, পুলিশ এবং ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা ও উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের কালীমন্দির এলাকার পেছনে উভয় পক্ষ আবার মুখোমুখি হয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানে অভিযুক্তরা একাধিকবার বক্তব্য পরিবর্তন করেন এবং সংঘবদ্ধ হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ সময় নতুন করে হুমকি ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা বলেন, আমাদের এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সামনেই তারা একে অপরকে দোষারোপ করতে গিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে আমি আতিকাকে প্রক্টর অফিসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে বলি।
ভুক্তভোগী আতিকা ইবনাত সিনহা জানান, পুরো ঘটনার আংশিক সিসিটিভি ফুটেজ তার কাছে রয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্র ইউনিয়নের কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মিশকাত তানিশা ছাড়াও রাতুল চৌধুরী, দেওয়ান রেজওয়ান, আহমেদ আবরার, অসীম দেব চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন এই ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধভাবে বাসার নিচে এসে নারী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা স্পষ্টতই নারী নির্যাতনের শামিল। একই সঙ্গে প্রকাশ্য দিবালোকে মোটরসাইকেল ছিনতাই একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মিশকাতুল মাশিয়াত বলেন, আমরা চাইনি আজিমপুরে কোনো ঝামেলা হোক। তাই আমরা তার বাইক ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।
এছাড়া তিনি ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে ঘটনার ভিন্ন বর্ণনা তুলে ধরে ভুক্তভোগী আতিকা ইবনাত সিনহাকে ‘এক সময়ের খুব কাছের ছোট বোন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, তাকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একই সঙ্গে ‘ভারী অজ্ঞাত বস্তু’ দিয়ে মাথা ফাটানোর অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। তার ভাষ্য, এত ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করা হলে ব্যান্ডেজ লাগার কথা, অথচ ছবিতে শুধু ভায়োডিন দেখা যাচ্ছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!