ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অব ওশেনোলজি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
কৌশলগত সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেস-এর সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অব ওশেনোলজি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।   ছবি: আরটিএনএন

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অব ওশেনোলজি’র মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রবিবার চীনের এসসিএসআইও-এর নানশা ক্যাম্পাসে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অব ওশেনোলজির মহাপরিচালক অধ্যাপক চাওলুন লি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্নেন্স (আইসিওজি) এবং সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অব ওশেনোলজির স্টেট কী ল্যাবরেটরি অব ওশেনোগ্রাফির যৌথ উদ্যোগে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই সমঝোতা স্মারক দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গবেষণা সহযোগিতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় এবং যৌথ বৈজ্ঞানিক উদ্যোগের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাউথ চায়না সি ইনস্টিটিউট অব ওশেনোলজির অধীনস্থ স্টেট কী ল্যাবরেটরি অব ওশেনোগ্রাফির পরিচালক অধ্যাপক ইয়ান ডু।

এই সহযোগিতার লক্ষ্য হলো সমুদ্র সঞ্চালন, জলবায়ু পরিবর্তনশীলতা, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, উপকূলীয় স্থিতিস্থাপকতা এবং ব্লু ইকোনমি গভর্নেন্সের ওপর গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা। এই উদ্যোগ দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক সম্পর্ক গড়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা ক্রান্তীয় সামুদ্রিক ব্যবস্থা এবং জলবায়ু স্থিতিস্থাপকতা বিষয়ে বৈশ্বিক গবেষণায় অবদান রাখবে।

উল্লেখ্য, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে চীন সফরে রয়েছে। দলে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর এবং ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ওশান গভর্নেন্সের পরিচালক ড. কে এম আজম চৌধুরী।

চীন সফরকালে প্রতিনিধিদলটি ‘আকস্মিক পরিবর্তন ও সন্ধিক্ষণ’ শীর্ষক ১৩তম আন্তর্জাতিক ক্রান্তীয় সামুদ্রিক পরিবেশগত পরিবর্তন সম্মেলন এবং ৬ষ্ঠ ক্লাইভার ক্লাইমেট ডাইনামিক্স প্যানেল বার্ষিক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম টেকসই উন্নয়নে সুপরিকল্পিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বাংলাদেশের মতো একটি ব-দ্বীপীয় দেশের জন্য সমুদ্র-সম্পর্কিত গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি জাতীয় অগ্রাধিকার। তিনি আরও বলেন, ভূ-ব্যবস্থা সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের মধ্যে কোনো কৃত্রিম সীমানা মানে না, তাই বৈজ্ঞানিক সহযোগিতাকে আরও আন্তঃশাস্ত্রীয়ভাবে এগিয়ে নিতে হবে।