বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এমএলএম
এমএলএম আইন অনুযায়ী এখনও অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধিমালা তৈরি করা হয়নি।   ছবি: আরটিএনএন

অসৎ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের প্রতারণা ঠেকাতে মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) আইন, ২০১৩ যথাযথভাবে কার্যকর না হওয়ায় আইনটির ধারা ৪০-এর উপধারা ১ ও ২ কার্যকর করার দাবি করেছেন এমএলএম পরিবেশক আমিন উল ইসলাম।

গত ১১ জানুয়ারি তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এ আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আইন অনুযায়ী এখনও অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধিমালা তৈরি করা হয়নি। এর ফলে পরিবেশকরা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অসৎ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান প্রতারণার ক্ষেত্রে আরও উৎসাহী হচ্ছে। দ্রুত অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা প্রণয়ন নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৩০ জুন আমিন উল ইসলাম মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন এবং কিছু সুপারিশও জমা দেন। সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য-অভিযোগ কেন্দ্র স্থাপন ও অভিযোগ নিষ্পত্তির বিধিমালা প্রণয়ন, পরিবেশকের ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর নির্ধারণ, বিক্রয় কার্যক্রমে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাইস (ইএফডি) ব্যবহার বাধ্যতামূলক, রাজস্ব, তথ্য প্রযুক্তি ও বিটিআরসি কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে সংযুক্তি, কমিশন ও পুরস্কার সময়মতো প্রদান নিশ্চিতকরণ, পণ্যের দাম ও পয়েন্টের নির্দিষ্ট অনুপাত বজায় রাখা, কমিশন থেকে উৎস কর দ্রুত প্রদান, পণ্যের সরবরাহ অব্যাহত রাখা, ইনসেন্টিভ/পুরস্কারের বিকল্প অর্থ প্রদান, প্রফিট শেয়ারিং ও কোম্পানির পরিচালকদের তথ্য প্রকাশ এবং চুক্তির শর্তাবলী বাংলায় মুদ্রিত করা।

২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথমূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর জানায়, প্রস্তাবিত সংযোজন ও সংশোধন বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে এবং আদালতের মামলা সংক্রান্ত তথ্যের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০১৩ গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধে জারি করা হয়েছিল। আইন ভঙ্গকারীদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের জেল বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়। তবে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। আদালতের আদেশ অনুযায়ী বর্তমানে দেশে মাত্র ৫টি এমএলএম কোম্পানি বৈধভাবে ব্যবসা করছে, কিন্তু ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত ৬০টি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিযোগ কেন্দ্র কার্যকর হলে এমএলএম ব্যবসায় ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা, পরিবেশকদের সুরক্ষা এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তারা সতর্ক করেছেন, আইন বাতিল বা কার্যকারিতা না থাকলে অসৎ প্রতিষ্ঠান অনলাইন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে আরও বেশি প্রতারণা চালাতে সক্ষম হবে।