ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক।   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডাররা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এর আগে ব্যাংক মার্জারের ক্ষেত্রে শেয়ার শূন্য করার সিদ্ধান্ত থাকায় এনবিএফআইগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা।

২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংক ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে জিএসপি ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি) এবং প্রাইম ফাইন্যান্সকে আর্থিক সূচকে উন্নতি দেখাতে তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত বছরের মে মাসে ২০টি এনবিএফআইকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা সন্তোষজনক না হওয়ায় নয়টি প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের উদ্যোগ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুনানির পর তিনটি প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি এনবিএফআই বন্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ায় শেয়ার বাজেয়াপ্ত বা শূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্য অনুযায়ী, ফাস ফাইন্যান্সের মোট শেয়ার ১৪ কোটি ৯০ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টি, যার ৭৯ দশমিক ২৫ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। প্রিমিয়ার লিজিংয়ের মোট শেয়ারের ৫৮ দশমিক ১০ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৪৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের ৭২ দশমিক ৯৪ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের ৩৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

সব মিলিয়ে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মোট ৯৫ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৪৭টি শেয়ারের মধ্যে ৫৮ কোটি ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫০২টি শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, প্রতিষ্ঠানের সম্পদ মূল্যায়ন করে ব্যক্তিগত আমানতকারীদের টাকা রোজার আগেই ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাতে ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের আমানতের পুরো অর্থ ফেরত পাবেন।

তিনি জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে ৯০ শতাংশের বেশি। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের আগে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর সরকার অর্থ ছাড় করলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সরকার দুই দফায় অর্থ ছাড় করবে বলে জানা গেছে। সে অনুযায়ী আমানতকারীদেরও দুই দফায় অর্থ ফেরতের পরিকল্পনা রয়েছে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইফুল ইসলাম আরটিএনএনকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সঠিক। তবে প্রতারণাপূর্ণ আর্থিক বিবরণীর কারণে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান আরটিএনএনকে বলেন, ব্যাংক সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে রুগ্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলেও কোন প্রক্রিয়ায় আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।