বেসরকারি খাতের শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি বলেছেন, এই প্রক্রিয়া জটিল এবং হিসাব–নিকাশ করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
বেসরকারি শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে গেল ১ ডিসেম্বর লাইসেন্স দেয়া হয়। আর ১ জানুয়ারি থেকে ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় লেনদেন শুরু হয়। তার আগে ৫ নভেম্বর একীভূত হতে যাওয়া পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের আমানতকারীরা চলতি মাসের শেষ দিক থেকে টাকা তুলতে পারবেন বলে ঘোষণা দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
সে দিন তিনি ‘অনিয়মের’ কারণে দুর্দশায় থাকা এসব ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার তথ্যও দেন। একই সঙ্গে গভর্নর শরীয়াহভিত্তিক এই পাঁচ বেসরকারি ব্যাংকের সব শেয়ার ‘শূন্য’ হয়ে গেছে বলেও ঘোষণা দেন।
এদিন এই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, আমি বলেছি, এখন আমরা এটা বিবেচনা করব। গভর্নর সাহেব তার মতো করে বলেছেন। তবে আমরা বলেছি অবশ্যই যারা ডিপোজিটর, যাদের টাকা আছে, সবাই পাবেন। ৪২ হাজার কোটি টাকা কেন দেয়া হল? দ্বিতীয় বিষয়টি হল, শেয়ারহোল্ডার।
“শেয়ারহোল্ডারদের বিষয় হল টেকনিক্যাল। ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেট অ্যাসেট ভ্যালু নেগেটিভ হয়ে যাওয়ায় শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ দেয়া একটি কারিগরি ও জটিল বিষয়। টেকনিক্যালরা বলে, ওরা শেয়ার কিনেছে, ওরা তো ওউনার, আপনি দেবেন কেন? তবু আমি বলেছি না, ওরা (শেয়ারহোল্ডাররা) হয় তো বাজারের সিগন্যাল দেখে শেয়ার কিনেছেন। আমি বলেছি দেখা যাক, কতোটুকু কি করা যায়।”
সালেহউদ্দিন বলেন, “কীভাবে (ক্ষতিপূরণ) দেব, সেটা নিয়ে কাজ হচ্ছে। অবশ্যই পরবর্তী অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন। ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা যখন নেতিবাচক হয়ে যায়, তখন পুরো দায় একতরফাভাবে শেয়ারহোল্ডারদের ওপর চাপিয়ে দেয়াও যৌক্তিক নয়।”
সেক্ষেত্রে কি সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন? জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে তার মডেল তৈরি করতে একটু সময় লাগবে। ধরেন কেউ বহু টাকার শেয়ার কিনেছেন, তাকে আংশিকভাবে শেয়ার দেয়া হতে পারে বা বাকিটুকু হয় তো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে। ওটা একটু হিসাব করতে হবে। কারণ বার্ডেনটা তো পুরোটা শেয়ারহোল্ডাররা নিতে পারেন না।”
ব্যাংক খাত সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “শুধু এককালীন সিদ্ধান্তে সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে ধারাবাহিক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
“শেয়ারবাজার ও বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী না করলে ব্যবসা-বাণিজ্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকনির্ভরই থেকে যাবে। ইক্যুইটি পার্টিসিপেশন ও বন্ড মার্কেট ছাড়া টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”
তিনি বলেন, “চলমান উদ্যোগগুলো পরবর্তী সরকার ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিলে ব্যাংক খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরবে।”
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!