ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা, পুঁজিবাজার, দরপতন,
ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনার প্রভাব পুঁজিবাজারে, বড় দরপতন   ছবি: সংগৃহীত

রানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে ঘিরে সৃষ্ট বৈশ্বিক উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১ মার্চ) লেনদেন শুরুর পরপরই বিক্রির চাপে বড় দরপতন হয়েছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি সব সূচকেই উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। কমেছে লেনদেনের পরিমাণও।

প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এদিন দাম বাড়ার তালিকায় নাম লেখাতে পেরেছে মাত্র ৩০টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে দর কমেছে ৩৫৩টির। ৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন শুরুর পর একপর্যায়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ২২৩ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যায়। পরে কিছু ক্রেতা সক্রিয় হওয়ায় পতনের গতি কিছুটা কমলেও শেষ পর্যন্ত বড় পতন নিয়েই লেনদেন শেষ হয়।

দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৩৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৬১ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ২৬ পয়েন্ট, অবস্থান করছে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে। আর বাছাই করা ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৫২ পয়েন্ট কমে নেমেছে ২ হাজার ১১৭ পয়েন্টে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ১৯২টির দর কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানির মধ্যে ২টির দর বেড়েছে, ৭৭টির কমেছে।

লভ্যাংশ না দেয়ায় ‘জেড’ শ্রেণিতে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১টির শেয়ারদর বেড়েছে। বিপরীতে ৮৪টির দর কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ২টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

মূল্যসূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনেও ভাটা পড়েছে। ডিএসইতে এদিন লেনদেন হয়েছে ৭৭৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৯৪৭ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৭১ কোটি ৭২ লাখ টাকা।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিটি ব্যাংক। ব্যাংকটির ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ–এর লেনদেন হয়েছে ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন।

এ ছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে রবি, ব্যাংক এশিয়া, ব্র্যাক ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ঢাকা ব্যাংক।

অন্য পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই চিত্র দেখা গেছে। বাজারটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই কমেছে ২৪৫ পয়েন্ট। লেনদেনে অংশ নেয়া ১৮৪ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৫টির দর বেড়েছে, ১৩৮টির কমেছে এবং ১১টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ১৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার তুলনায় কম।

বাজার–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ায় বৈশ্বিক অর্থবাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারেও। ঝুঁকি এড়াতে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ শেয়ার বিক্রিতে ঝুঁকেছেন, যার ফলেই সূচকে বড় পতন দেখা গেছে।