যুক্তরাষ্ট্র, ইরান , আল জাজিরা, প্রেস টিভি, ডোনাল্ড ট্রাম্প, পারমাণবিক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগে নতুন যুদ্ধাস্ত্র প্রকাশ্যে আনল ইরান   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে সামরিক শক্তির দৃশ্যমান প্রদর্শন করল ইরান। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তাদের উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহর-৪’ প্রকাশ্যে প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমানের রাজধানী মাসকটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনায় বসার কয়েক ঘণ্টা আগেই এই সামরিক প্রদর্শনী চালানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার আগে এমন শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে তেহরান কূটনীতি চললেও সামরিক সক্ষমতা প্রশ্নাতীত নয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আইআরজিসির মহাকাশ বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি একটি নতুন ভূগর্ভস্থ ‘মিসাইল সিটি’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে খোররামশাহর-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রদর্শন করা হয়। ইরান দাবি করছে, এই ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলো শত্রুপক্ষের নজরদারি ও সম্ভাব্য হামলা এড়াতে সক্ষম এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে পাল্টা জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, খোররামশাহর-৪ ইরানের সবচেয়ে উন্নত দীর্ঘপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি। এর পাল্লা প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার, যা মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপের কিছু অংশ পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম বলে মনে করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় এক হাজার পাঁচশ কেজি ওজনের ভারী ওয়ারহেড বহনে সক্ষম, যা এটিকে কৌশলগত দিক থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার সকালে ওমানের রাজধানী মাসকটে আলোচনায় বসেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও জামাতা জারেড কুশনার। আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হিসেবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আইআরজিসির রাজনৈতিক উপপ্রধান ইয়াদোল্লাহ জাভানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট করে বলেছেন, কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নেওয়া মানেই সামরিক শক্তি থেকে সরে আসা নয়। তার ভাষায়, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে প্রতিপক্ষ কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার কঠোর জবাব দেয়া হবে। এই মন্তব্যকে আলোচনার টেবিলে বসেও শক্ত অবস্থান বজায় রাখার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।