যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামাকে ‘বানর’ হিসেবে চিত্রিত করা একটি ভিডিও শেয়ার করে আবারও তীব্র তোপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ গভীর রাতে বেশ কিছু বার্তা পোস্ট করেন, যার মধ্যে এই বিতর্কিত ভিডিও ক্লিপটিও ছিল।
শুক্রবার দুপুরের মধ্যে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়—তবে তার আগেই এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান দলের নেতারাও এই পোস্টের তীব্র নিন্দা জানান এবং একে ‘স্পষ্টতই বর্ণবাদী’ বলে অভিহিত করেন।
সিনেটে দায়িত্বরত একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান সদস্য টিম স্কট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলেন, তিনি “প্রার্থনা” করছিলেন যেন ভিডিওটি “ভুয়া হয়, কারণ এটি এই হোয়াইট হাউস থেকে আসা সবচেয়ে জঘন্য বর্ণবাদী বিষয় যা আমি দেখেছি।” তিনি আরও যোগ করেন, “প্রেসিডেন্টের উচিত এটি অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা।”
আরেক রিপাবলিকান প্রতিনিধি মাইক ললারও ট্রাম্পকে পোস্টটি ডিলিট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি “অবিশ্বাস্যভাবে অপমানজনক—তা ইচ্ছাকৃত হোক কিংবা ভুলবশত।”
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা ভিডিওটিকে ট্রাম্পের অতীত অসংবেদনশীল আচরণের ধারাবাহিকতা হিসেবে উল্লেখ করে রিপাবলিকানদের এই ঘটনার নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিস বলেন, “প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং মিশেল ওবামা অত্যন্ত মেধাবী, সহানুভূতিশীল এবং দেশপ্রেমিক আমেরিকান। তাঁরা এই দেশের সেরাটাকেই প্রতিনিধিত্ব করেন।” ট্রাম্পের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন জঘন্য, বিকারগ্রস্ত এবং নিচু মানসিকতার ব্যক্তি। জন থুনের মতো জিওপি (রিপাবলিকান) নেতারা কেন এমন অসুস্থ একজন ব্যক্তির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন?”
হোয়াইট হাউস প্রথমে পোস্টটির পক্ষে সাফাই গেয়ে এটিকে একটি “ইন্টারনেট মিম” হিসেবে অভিহিত করে। পরে তারা দাবি করে, পোস্টটি প্রেসিডেন্ট নয়, বরং হোয়াইট হাউসের এক কর্মী “ভুলবশত” শেয়ার করেছিলেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প নিজেও এর দায় অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তিনি ছোট ভিডিও ক্লিপটির কেবল শুরুটা দেখেছিলেন, যেখানে তাঁর ২০২০ সালের নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে কিছু দাবি ছিল। ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প বলেন, “না, আমি কোনো ভুল করিনি। আমি হাজার হাজার জিনিস দেখি। আমি এর শুরুটা দেখেছিলাম এবং ওটা ঠিকই ছিল।”
ওবামাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈরি সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বারাক ওবামা ও মিশেল ওবামাই ছিলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডি। বারাক ওবামার ২০১২ সালের পুনঃনির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং মিথ্যা দাবি তোলেন যে ডেমোক্র্যাটিক নেতা যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেননি।
রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে তিনি প্রায়ই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি মিম এবং ভিডিও শেয়ার করেন, যা তাঁর রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রচার করে।
ওবামাদের নিয়ে বিতর্কিত ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ১১:৪৪ মিনিটে পোস্ট করা হয়। এক মিনিট দুই সেকেন্ডের ভিডিওটির ৫৯তম সেকেন্ডে ওবামাদের বানর হিসেবে দেখানো ছবিটি ভেসে ওঠে। ভিডিওটি মূলত ২০২০ সালের নির্বাচন নিয়ে ভিত্তিহীন দাবির ওপর তৈরি একটি তথ্যচিত্রের মতো, যেখানে দাবি করা হয়েছে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছিল। ‘প্যাট্রিয়ট নিউজ আউটলেট’ নামের একটি সাইটের ওয়াটারমার্কযুক্ত ভিডিওটিতে ওবামাদের বিকৃত ছবির সঙ্গে ১৯৬১ সালের ‘দ্য লায়ন স্লিপস টুনাইট’ গানটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকরা অভিযোগ করে আসছেন যে, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর অভ্যন্তরীণ ইস্যুগুলো থেকে দৃষ্টি সরাতে ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে এমন ক্ষোভ উস্কে দেন। সম্প্রতি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কিত লক্ষ লক্ষ ফাইল প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে ট্রাম্পের নামও রয়েছে।
সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন
সামনে নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। নিউইয়র্কের মাইক ললারের মতো অনেক রিপাবলিকান কঠিন নির্বাচনী প্রচারণার মুখোমুখি হচ্ছেন। ট্রাম্প সতর্ক করেছেন, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তাঁকে নতুন করে অভিশংসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হতে পারে।
প্রথমে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বিষয়টিকে হালকা করে বলেন, এটি “লায়ন কিং” সিনেমার চরিত্রের ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি মিম। তিনি বলেন, “দয়া করে এই মেকি ক্ষোভ বন্ধ করুন এবং আমেরিকার জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করুন।”
পোস্টটি ডিলিট করার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের সম্মানে পোস্টটি সরিয়েছেন এবং এটি বামপন্থী মিডিয়ার একটি কারসাজি। তবে লেভিটের ব্যাখ্যা দ্বিপাক্ষিক নিন্দা থামাতে পারেনি।
সূত্র : আল জাজিরা
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!