শুক্রবার ইসলামাবাদের একটি ইমামবারগাতে (শিয়া মসজিদ) আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সেখানকার এক মুসল্লি সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, নামাজ শুরু হওয়ার ঠিক পরপরই একটি ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ বিস্ফোরণে পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। এই । পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এতে আহত হয়েছেন ১৩০ জনেরও বেশি।
হামলার প্রত্যক্ষদর্শী ৫২ বছর বয়সী মুহাম্মদ কাজিম বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, শুক্রবার দুপুর ১টার কিছু পরে তিনি ‘ইমামবারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা’য় পৌঁছান এবং ইমামের পেছনে সপ্তম বা অষ্টম কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিমস) হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “নামাজের প্রথম রাকাতের রুকুতে যাওয়ার সময় আমরা গুলির শব্দ শুনতে পাই।” উল্লেখ্য, আহত অনেককে চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালেই নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, “আমরা তখনো রুকুতেই ছিলাম, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিকট বিস্ফোরণটি ঘটে।” গিলগিট-বাল্টিস্তানের বাসিন্দা কাজিম বর্তমানে ইসলামাবাদেই থাকেন। তিনি অক্ষত থাকলেও, তাঁর আহত বন্ধুকে চিকিৎসার জন্য পিমস হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন।
কাজিম বলেন, “সেটা আত্মঘাতী হামলা ছিল কি না তা তখন বোঝা যাচ্ছিল না, তবে বিস্ফোরণটি ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এতে প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “ছাদ থেকে ধ্বংসাবশেষ খসে পড়ছিল এবং জানালার কাচগুলো ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আমি যখন বাইরে বেরিয়ে আসি, দেখি চারদিকে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে... অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।”
ইমরান মাহমুদ নামের আরেক মুসল্লি ইমামবারগাহর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবক এবং আত্মঘাতী হামলাকারী ও তার সম্ভাব্য সহযোগীর মধ্যে চলা গোলাগুলির বর্ণনা দেন। পঞ্চাশোর্ধ্ব মাহমুদ এএফপিকে বলেন, “আত্মঘাতী হামলাকারী সামনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু আমাদের এক আহত স্বেচ্ছাসেবক পেছন থেকে তাকে গুলি করেন, যা তার উরুতে আঘাত করে।”
তিনি আরও বলেন, “গুলি লাগার পর সে পড়ে গিয়েছিল, কিন্তু আবার উঠে দাঁড়ায়। তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তি আমাদের স্বেচ্ছাসেবকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।” তিনি জানান, এরপর হামলাকারী “গেটের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নিজেকে উড়িয়ে দেয়।” শুক্রবার রাত পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১-এ পৌঁছায় এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬৯ জনে। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল পাকিস্তানের রাজধানীতে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ওই সময় পাঁচ তারকা ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী ট্রাক বোমা হামলায় হোটেলের একাংশ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং ৬০ জন নিহত হয়েছিলেন।
সূত্র : জিও নিউজ
আরটিএনএন/এআই
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!