সুদান, জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের তথ্যমতে, প্রথম হামলাটি চালানো হয় এর-রাহাদ এলাকায় তিনটি ট্রাকের ওপর   ছবি: সংগৃহীত

কর্মকর্তা ও চিকিৎসা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, উত্তর করদোফানজুড়ে মানবিক ত্রাণবাহী বহর ও জ্বালানির ট্রাক লক্ষ্য করে সুদানের র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) একাধারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বহরে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে উত্তর করদোফান রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর প্রতি আরএসএফ আধা-সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।

রাজ্যের রাজধানী আল-ওবেইদ এবং প্রতিবেশী হোয়াইট নাইল রাজ্যের কোস্তির সংযোগকারী প্রধান সড়কে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে আল-ফাশার আরএসএফের দখলে যাওয়ার পর থেকে করদোফান অঞ্চলে সরকার সমর্থিত সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) এবং আরএসএফের মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। আল-ফাশারে আরএসএফ নৃশংসতা চালিয়েছিল, যাকে জাতিসংঘ একটি ‘অপরাধস্থল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) তথ্যমতে, ভোরবেলায় প্রথম হামলাটি চালানো হয় এর-রাহাদ এলাকায় তিনটি ট্রাকের ওপর। এরপর এস সামিহ-এর কাছে আল্লাহ করিম এলাকায় দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয়। এতে জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকসহ চারটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উম রাওয়াবায় তিনটি ড্রোন একটি পরিবহন ট্রাক ও একটি জ্বালানির ট্যাঙ্কারে আঘাত হানে, যার ফলে আরও বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোক হতাহত হন। তবে এ বিষয়ে ডব্লিউএফপি এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, আল-ওবেইদে বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সময় বহরটি হামলার শিকার হয়। সংগঠনটি এ ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তারা একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং মানবিক কর্মী ও অবকাঠামো সুরক্ষায় আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আরব ও আফ্রিকা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বোলোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, “উত্তর করদোফানে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির বহরে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার নিন্দা জানাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের জন্য খাদ্য পরিবহনের সময় এই হামলায় একজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন।” তিনি আরও লিখেন, “দুস্থ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার ধ্বংস করা এবং মানবিক কর্মীদের হত্যা করা একটি ঘৃণ্য কাজ।”

তিনি যোগ করেন, “জীবন নাশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে পরিচালিত এই সহায়তার ওপর এমন ধ্বংসযজ্ঞ ট্রাম্প প্রশাসন কোনোভাবেই সহ্য করবে না (জিরো টলারেন্স)। আমরা এর জবাবদিহি দাবি করছি এবং এই অমার্জনীয় ঘটনা ও ভয়াবহ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”

জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী ডেনিস ব্রাউন জানান, ট্রাকগুলো কোস্তি থেকে আল-ওবেইদের কাছে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা নিয়ে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হয়। তিনি উল্লেখ করেন, এই সপ্তাহের শুরুর দিকে ব্লু নাইল রাজ্যের ইয়াবুস এলাকায় ডব্লিউএফপি-সংশ্লিষ্ট একটি স্থাপনায় আরেকটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যাতে একজন কর্মী আহত হন।

সুদানি সেনাবাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে চলমান নৃশংস সংঘাত এখন তৃতীয় বছরের দিকে গড়াচ্ছে। এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বহু অঞ্চল দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২ কোটি ১০ লাখেরও বেশি সুদানি তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন এবং দেশটির দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এ ছাড়া হাজার হাজার মানুষ প্রতিবেশী দেশ চাদে পালিয়ে গেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই