যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানবে তেহরান এমন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আল জাজিরা ফোরামের ১৭তম আসরের ফাঁকে দেয়া এক বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক আগ্রাসনের জবাব দিতে ইরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলো ইরানের সামরিক সক্ষমতার আওতার মধ্যেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তাহলে ওই ঘাঁটিগুলোই হবে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্যবস্তু।
তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও স্পষ্ট করে দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইরান প্রতিবেশী কোনো দেশের ভূখণ্ডে সরাসরি হামলা চালাতে চায় না। কিন্তু যেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, সেখানে হামলা চালানো হবে। তার ভাষায়, “আমরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চাই না, কিন্তু শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব দিতে আমরা এক মুহূর্তও দেরি করব না।”
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত, সেটিও পুনর্ব্যক্ত করেন আরাগচি। তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং শত্রুর যে কোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।
পরমাণু কর্মসূচি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুরোপুরি প্রতিরক্ষামূলক এবং এ বিষয়ে কোনো আলোচনায় বসার প্রশ্নই ওঠে না। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের বৈধ অধিকার এবং এটি বন্ধ করার কোনো ইচ্ছা তেহরানের নেই। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও স্পষ্ট করে জানান তিনি।
এদিকে ওমানের রাজধানী মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করতে হলে এখনো দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
আরাগচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া আলোচনা ছিল সম্পূর্ণ পরোক্ষ এবং কেবল পরমাণু ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও বাস্তব অর্থনৈতিক সুবিধা ছাড়া কোনো চুক্তির কার্যকারিতা থাকবে না এ অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে না ইরান।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরান আবারও স্পষ্ট করে দিল, সামরিক চাপ বা হুমকির মাধ্যমে তেহরানকে দমন করা সম্ভব নয়। বরং আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়লে তার দায়ভার যুক্তরাষ্ট্রকেই নিতে হবে এমন বার্তাই আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে দিতে চায় দেশটি।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!