যুদ্ধ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।   ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে লক্ষ্য করে নজরদারি চালাচ্ছিল বলে জানিয়েছে রয়টার্স। কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান, চলাফেরা ও বৈঠকের ধরন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।

তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি বৈঠকে উপস্থিত থাকার নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পরই তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথ আকাশ ও নৌ-অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একজন মার্কিন সূত্রের বরাতে জানানো হয়, বৈঠকটি প্রথমে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় হওয়ার কথা ছিল। তবে ইসরায়েলি গোয়েন্দারা শনিবার সকালে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি নেতৃত্ব-সংক্রান্ত কম্পাউন্ডে বৈঠকের তথ্য শনাক্ত করে। সিআইএ নিশ্চিত হয় যে খামেনি নিজেও সেখানে উপস্থিত থাকবেন।

এই নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার সময়সূচি এগিয়ে আনা হয় বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ময় সৃষ্টির কৌশল হিসেবে প্রথম আঘাতটি খামেনিকে লক্ষ্য করেই হানা হয়, কারণ সুযোগ পেলে তিনি আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা ছিল।

ওয়াশিংটনে মধ্যরাতের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার নির্দেশ দেন। জেনেভায় ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার দুই দিন পর এ সিদ্ধান্ত আসে। ভোরের দিকে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং তেহরান সময় সকাল আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তু কম্পাউন্ডে আঘাত হানে।

ইসরায়েলি এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়, যার একটি স্থানে রাজনৈতিক-নিরাপত্তা স্তরের শীর্ষ ব্যক্তিরা অবস্থান করছিলেন। স্যাটেলাইট চিত্রে উচ্চ-নিরাপত্তা কম্পাউন্ড ধ্বংসের প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

রোববার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলে দেশজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ৪৬ বছরের শিয়া ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ‘খুনিদের’শাস্তির অঙ্গীকার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় আলি শামখানি, মোহাম্মদ পাকপুর, আজিজ নাসিরজাদেহ এবং আবদুল রহিম মুসাভিসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ইরান এই ঘটনার জবাব দেবে।