ইরান, ট্রাম্প, খোমেনি, ইসরায়েল, লেবানন
হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম   ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেম এখন তাদের "হত্যার লক্ষ্যবস্তু" হয়েছেন। উত্তর ইসরায়েলের হাইফায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে হিজবুল্লাহ রকেট ও ড্রোন হামলা চালানোর পর লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হওয়ার পরপরই এই ঘোষণা এলো। হিজবুল্লাহ জানিয়েছিল, খামেনিকে হত্যার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা ওই হামলা চালিয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর তৎকালীন প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর নাঈম কাসেম তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ছোড়ার পর এক বৈঠকে দেশটির সেনাপ্রধান আইয়াল জাজির এই ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, "আমরা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে একটি আক্রমণাত্মক অভিযান শুরু করেছি।" এদিকে লেবানিজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছেন।

লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বিমান হামলা বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহর এবং দক্ষিণ লেবাননে আঘাত হেনেছে। রাজধানীর উপশহরগুলোতে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়েছেন; দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ১১ জন নিহত ও ৫৮ জন আহত হয়েছেন।

উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার দায় স্বীকারের পর ইসরায়েল লেবাননে পাল্টা হামলা চালায়। এর ফলে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধ এখন আরও বিস্তৃত হলো। ইসরায়েল জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির হুমকিও দিয়েছে, যার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, দেশটির সানন্দাজ শহরে ‘শত্রুপক্ষের হামলায়’ অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরটি আক্রান্ত হয়েছে এবং শহরের পুলিশ স্টেশনের পাশে বেশ কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে।

তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনী শহরের জনবসতিপূর্ণ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এবং আল জাজিরা কর্তৃক যাচাইকৃত ফুটেজে হামলার মুহূর্তটি দেখা গেছে, যেখানে আকাশে আগুন ও বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা  যায়।

সূত্র : আল জাজিরা

আরটিএনএন/এআই