আগুন, আবাসিক ভবন
উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ওই সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।   ছবি: সংগৃহীত

ছুটির দিনের সকালে রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জন হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।

তিনি বলেন, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ওই সাততলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগার খবর পান তারা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকাল ১০টার দিকে পুরোপুরি আগুন নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে তিনজনের মৃত্যু ঘটে। ১৩ জনকে উদ্ধার করে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। 

উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ বলেন, ভবনের দোতলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। নিহতদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের সদস্য। তারা হলেন- কাজী ফজলে রাব্বি (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান (২)। নিহতদের মধ্যে রোদেলা আক্তার নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ নেওয়া হয়েছে লুবানা জেনারেল হাসপাতালে। বাকি দুজন হলেন ৫২ বছর বয়সী মো. হারিছ এবং তার ১৭ বছর বয়সী ছেলে মো. রাহাব। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে।

এ দিকে চিকিৎসকের বরাত দিয়ে জানা যায়, শেষের তিনজনের কেউ দগ্ধ হননি। ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বি ও রিশানের মরদেহ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রয়েছে। 

রাব্বি কুমিল্লা সদর উপজেলার নানুয়া দিঘিরপাড়ের বাসিন্দা এবং তিনি এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী সুবর্ণা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, তাদের অন্য ছেলে ফাইয়াজ তখন নানীর বাসায় থাকায় বিপদ থেকে বেঁচে গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টি তদন্ত করছে।

এমকে/আরটিএনএন