নির্বাচন
নির্বাচনী উৎসবের আমেজ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন সাধারণ মানুষ।   ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে নির্বাচনের আর মাত্র বাকি দুই দিন। ভোটকে সামনে রেখে দেশজুড়ে প্রস্তুতি চূড়ান্ত  প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে দেশে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। এছাড়া বহু বছর ভোট দিতে না পাড়ায় নির্বাচনে ভোট দিতে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে শুরু করেছেন সাধারণ মানুষ। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটায়। এখন কোনো প্রার্থী ভোটের প্রচারণা চালালে সেটি নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এরই মধ্যে রাজধানী ছেড়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যাচ্ছেন ভোটারগণ। তাদের অনেকেই এবারের নির্বাচনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

ময়মনসিংহের শেখ আলাউদ্দিন ঢাকা থেকে ভোট দিতে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। সকাল সকাল যান মহাখালী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে। তিনি বলেন, টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছি। সাধারণত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় টানা কয়েক দিনের ছুটি পান পোশাক শ্রমিকরা। তখন সবাই আনন্দ নিয়ে গ্রামে ছুটে যান। এখন নির্বাচন উপলক্ষে টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছেন। এতে ঈদ আনন্দের মতো লাগছে তার। 

তিনি আরও বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে গ্রামে গিয়েছিলাম। কিন্তু কেন্দ্রে গিয়ে দেখি, আমার ভোট কে যেন দিয়ে দিয়েছে। তখন ভয়ে প্রতিবাদও করার সাহস পাইনি। এবার গণঅভ্যুত্থানের পর সময় পরিবর্তন হয়েছে। মানুষ নিজ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চায়। আশা করি এবার ভোটের পরিবেশ ভালো থাকবে।

তার মতো আরও বহু মানুষ ভোট দিতে গ্রামে যাচ্ছেন। তাদের সবার মুখে একই কথা, দীর্ঘ কয়েকবছর পর এবার জাতীয় নির্বাচন জমে উঠেছে। ভোট দিতে দল বেধে গ্রামে ছুটছেন তারা। এই আনন্দ ঈদের উৎসবের মতো লাগছে। এখন সুষ্ঠুভাবে নিজের ভোট, নিজেরাই দিতে চান তারা।

তবে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক  তীব্র যানজট ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অভিযোগ ওঠেছে বাস মালিক কর্তপক্ষের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে শত-শত মানুষজন দাঁড়িয়ে আছে। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল দেখা গেছে। কলেজগেট ও গাজীপুরা এলাকায় যানজট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। আবার আন্তঃজেলা ও অন্তঃজেলার বাসগুলোও বাড়তি আয়ের আশায় স্বাভাবিক রুট ছেড়ে একাধিক ট্রিপ মারছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

যাত্রীরা বলেন, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে যেখানে সাধারণত বাসভাড়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাস না পেয়ে অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে ট্রাকেও উঠছেন। ট্রাকে জনপ্রতি নেওয়া হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা।

ময়মনসিংহগামী এক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ যেতে সাধারণত ২৫০ টাকা ভাড়া লাগে। আজ সকালে বাসে উঠতে গিয়ে ৬০০ টাকা চাইল। বাধ্য হয়ে দিতে হয়েছে। এত ভোগান্তি আগের ঈদেও দেখিনি।

সজিব হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, গতকাল ছুটি পেয়ে রাতেই বাড়ির উদ্দেশে বের হয়েছি। কিন্তু প্রচুর জ্যামের কারণে গাড়ি চলছে না। পরে আজ সকালে এসে গাড়ির অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছি। এখন আবার ৬০০ টাকার ভাড়া চাচ্ছে ১৫০০ টাকা।

পোশাক শ্রমিক আশা বেগম বলেন, আমি ভোট দিতে যাব গ্রামের বাড়িতে। রাস্তায় প্রচুর যানজট, কোনো গাড়িতে ন্যায্য ভাড়ায় উঠতে পারছি না। একটা সিন্ডিকেট বানিয়ে ফেলেছে। এখানে প্রশাসনের কোনো দায়িত্ব পালন করতেও দেখছি না।

রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী এন আর বাসের চালক আব্বাস উদ্দিন বলেন, যাত্রী নিয়ে রাত ১টার দিকে সাভারে এসে পৌঁছেছি। এরপর থেকে সকাল হয়েছে চন্দ্রা বাস কাউন্টার পর্যন্ত আসতেই। তিনি বলেন, যাত্রীর চাপ অতিরিক্ত থাকায় পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেছে। অনেক গাড়ি যানজটে আটকে আছে।

রাবেয়া খাতুন নামের এক গার্মেন্টকর্মী বলেন, ভোটের জন্য ছুটি দিয়েছে, কিন্তু বাসই তো পাচ্ছি না। সকাল থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখন মনে হচ্ছে ট্রাকে উঠতে হবে। সেখানেও ৪০০ টাকা নিচ্ছে। বাস কম, যাত্রী বেশি। এই সুযোগে সবাই ভাড়া বাড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করছে সরকার। ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্বাচনকালীন নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

নির্বাচন সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সহিসংতার ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে পটুয়াখালি (বৌফল), ভোলা সদর, শেরপুর ও ধোপাউড়া এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিকের অধিক আহত হয়েছে।

এদিকে, ১২ফেব্রুয়ারি নির্বাচন সামনে রেখে নেত্রকোনার সদর ও পূর্বধলা উপজেলায় একাধিক ভোটকেন্দ্রের বুথ কক্ষে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। 

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ, ডিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেন। পরে আগুন দেওয়ার সততা নিশ্চিত করেছেন পুলিশ।

জানা গেছে, সদর উপজেলার পারলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নূরপুর শ্রীধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বামনমোহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আগুনে বুথ কক্ষের ভেতরে থাকা বেঞ্চ, ফ্যান ও লাইট পুড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।