নির্বাচন, ভোট, সাধারণ মানুষ, শ্রমজীুবি মানুষ
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর প্রথম নির্বাচন   ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে এটিই প্রথম নির্বাচন। লাখ লাখ পোশাক শ্রমিক ও মালিক আশা করছেন, নতুন সরকার দেশের বৃহত্তম এই শিল্পকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে। মার্কিন শুল্ক, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণে গত টানা ছয় মাস ধরে এই খাতের রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।

পোশাক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণভোমরা। মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ এবং অর্থনীতির ১০ শতাংশেরও বেশি আসে এই খাত থেকে। বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ডের পোশাক এখান থেকেই সরবরাহ করা হয়। প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে ৪০ লাখ শ্রমিক এই শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন, যার অধিকাংশই নারী।

কারখানার মালিকরা দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত স্থিতিশীলতা, টেকসই মজুরি কাঠামো, ব্যাংকিং খাতের পুনরুদ্ধার এবং সাশ্রয়ী জ্বালানি মূল্যের দাবি জানিয়েছেন। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী—উভয়েই অর্থনীতির এই একক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মালিকদের মতে, মার্কিন শুল্ক এবং ২০২৪ সালে হাসিনার পতনের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেই রপ্তানি কমে গেছে।

নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট

বৃহস্পতিবার সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার প্রশ্নেও বাংলাদেশের মানুষ গণভোটে অংশ নিয়েছেন। ভোটাররা চারটি প্রধান সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে নতুন সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি এবং দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ প্রবর্তন, যেখানে সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এছাড়াও ৩০টি সনদ সংস্কারের বিষয়টিও ভোটের আওতায় রয়েছে—যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমা নির্ধারণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত। ভোটাররা গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের মতামত জানিয়েছেন।

যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ পক্ষে ভোট দেন, তবে প্রথম অধিবেশন থেকে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে একটি ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠন করা হবে। ভোটারদের প্রতিক্রিয়া: ‘এ যেন আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ কে.এম. হাফিজুর রহমান এবং ইশরাত জাহান সান্ত্বনা—পেশায় দুজনই আইনজীবী—ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার মাত্র ৩০ মিনিট আগে, বিকেল ৪টার দিকে কেন্দ্রে পৌঁছান।

রহমান জানান, তারা দুজন ভোট দেওয়ার আগে শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে ঘুরে ‘উৎসবমুখর পরিবেশ’ দেখেছেন। তিনি বলেন, “তাই আমাদের ভোট দিতে একটু দেরি হয়ে গেল।” তিনি আরও বলেন, “আজ রাতে যত দেরিই হোক, আমি ফলাফল দেখার জন্য জেগে থাকব, প্রয়োজনে ঘুমাব না। কে জিতবে তা দেখার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এ যেন আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা।”

ভোটারদের প্রতিক্রিয়া: ‘আমাদের ভোটের মূল্য আছে’

মোহাম্মদ জুবায়ের হোসেন (৩৯) দিনের শুরুতেই ঢাকার একটি স্কুলে ভোট দিতে যান। তিনি জানান, ২০০৮ সালে তিনি সর্বশেষ ভোট দিয়েছিলেন, যাকে তিনি বাংলাদেশের শেষ ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, “পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে আমি আর ভোট দেইনি, কারণ প্রয়োজন ছিল না। সেগুলোর কোনো গুরুত্ব ছিল না।” তিনি পরোক্ষভাবে ওই নির্বাচনগুলো কারচুপির মাধ্যমে হয়েছিল বলে ইঙ্গিত করেন, যদিও শেখ হাসিনা দাবি করে আসছিলেন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠু ছিল। হোসেন বলেন, “১৭ বছর পর স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত। এখন আমাদের ভোটের মূল্য ও অর্থ থাকবে। এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।”

সূত্র : রয়টার্স

আরটিএনএন/এআই