পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ভেজাল ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে নাগরিক সংগঠনগুলো।
আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব উদ্বেগ তুলে ধরেন।
নাগরিক সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বিসেফ ফাউন্ডেশন এবং কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এ উদ্বেগ জানান।
বক্তারা বলেন, রমজান মাসে খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে ভেজাল, রাসায়নিক ব্যবহার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য প্রস্তুত ও সংরক্ষণের কারণে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে ইফতার সামগ্রী, শরবত, ফলমূল ও খোলা খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তারা উল্লেখ করে জানান, অনিরাপদ পানি বা বরফ ব্যবহার, কৃত্রিম রং ও অননুমোদিত রাসায়নিক মিশ্রণ খাদ্যকে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এসব কারণে খাদ্যবাহিত রোগ ও অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে।
বাজার তদারকি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের দাবি করে বক্তারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রমজানকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুদদারির মাধ্যমে বাজার অস্থির করে তোলে। তাই বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে নিয়মিত অভিযান, মূল্য তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করার দাবি জানান তারা। এবং একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য আইন বাস্তবায়ন, খাদ্য উৎপাদক থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে হলে কৃষক পর্যায় থেকেই সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনকারী কৃষকদের সরাসরি বাজারে বিক্রির সুযোগ সৃষ্টি, “নিরাপদ কৃষকের বাজার” চালু এবং নিরাপদ উৎপাদকদের প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
জনসচেতনতা ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজনবোধ করে বক্তারা বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়— গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে বছরব্যাপী জনসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। খাদ্যের পুষ্টিমান, মেয়াদ ও মান সম্পর্কে ভোক্তাদের সচেতন করা জরুরি।
তারা খাদ্যপণ্যে দৃশ্যমান পুষ্টিমান তথ্য, কিউআর কোড ব্যবহারের ব্যবস্থা এবং খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল নিবন্ধন চালুর ওপরও গুরুত্ব দেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার খাদ্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করবে। নাগরিক সমাজ এ লক্ষ্যে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বিসেফ ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি ও সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক।
সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন এবং শিসউক-এর নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোরশেদ।
সর্বশেষ সংবাদ সম্মেলন থেকে সবাইকে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!