তেল, জাহাজ, যুদ্ধ, ইরান, আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, তেল সঙ্কট, জাতীয়, সারাদেশ,
বন্দরে ভিড়তে শুরু করেছে তেলবাহি জাহাজ।   ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার ও সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা অন্তত ১৫টি জাহাজ ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি, বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল রয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া জাহাজগুলো যখন হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে, তখন ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছিল। তবে সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই জাহাজগুলো নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে সেগুলো পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে এবং পণ্য খালাসের কাজও শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, আগত জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রয়েছে। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা এই গ্যাস দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার জ্বালানি চাহিদা মেটাতে ব্যবহার করা হবে।

বন্দর সূত্র বলছে, কাতার থেকে এক লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া এলপিজি বহনকারী ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার বন্দরে আসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ‘লুসাইল’ নামের একটি জাহাজ সোমবার এবং ‘আল গালায়েল’ নামের আরেকটি জাহাজ আগামী বুধবার বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের পণ্য পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হলো হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর থেকে এই প্রণালী পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে জাহাজগুলো বাংলাদেশে আসে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ পথের পরিবহন কিছুটা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের কাঁচামাল রয়েছে। জাহাজ ভিড়ানো, পণ্য খালাস এবং সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বন্দরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকার রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি কার্গো জাহাজে প্লাস্টিক ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের কাঁচামাল এসেছে, যা দেশের গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহার করা হবে।