ইরান যুদ্ধ
জ্বালানি তেলের অস্থিরতা ।   ছবি: সংগৃহীত

গত কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চাপের মুখে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, যা কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং পরিবহন ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে সরকার বিভিন্ন কৌশলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকটের তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ

ডলার সংকট ও ঋণপত্র (LC) জটিলতা

আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় ডলারের জোগান দিতে হিমশিম খাচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বকেয়া পরিশোধে দেরি হওয়ায় বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় তেল সরবরাহে অনীহা দেখাচ্ছে।

ভর্তুকির চাপ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে বাধ্য হয়। এই আর্থিক ঘাটতি মেটাতে গিয়ে বিপিসি (বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন) অনেক সময় সঠিক সময়ে পেমেন্ট দিতে পারছে না।

বৈশ্বিক অস্থিরতা

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের ওঠানামা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি যুদ্ধে বিশ্বে তেলের বাজারে ব্যাপক নীতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা বাংলাদেশে জ্বালনি তেলের সংকট ধীরেধীরে 'ঘনীভূত' হচ্ছে। 

জ্বালানি তেলের সংকট জীবনযাত্রায় বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব

কৃষি খাত: সেচ মৌসুমে ডিজেলের সংকট বা দাম বাড়লে সরাসরি ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

পরিবহন ব্যয়: তেলের দাম সমন্বয়ের প্রভাবে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন: অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি স্বল্পতার কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না, যার ফলে লোডশেডিংয়ের কবলে পড়তে হচ্ছে শিল্প-কারখানাগুলোকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র আমদানিনির্ভরতা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তারা মনে করেন: "দেশের অভ্যন্তরে স্থলভাগ ও সমুদ্রবক্ষে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি না করলে আমদানির এই বোঝা ভবিষ্যতে আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে।"

সরকার ইতোমধ্যে তেল মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য নানা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তবে স্বল্পমেয়াদে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা এবং বিকল্প উৎস থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সংগ্রহের কোনো বিকল্প নেই।