ফাঁকা ঢাকায় ভিন্ন স্বাদের ঈদ: নেই যানজট, নেই কোলাহল, ঈদের দিনের ঢাকা, ঈদে ফাকা ঢাকা,
২১.০৩.২৬ তারিখ ঈদের দিনে মতিঝিল এলাকার দৃশ্য।   ছবি: সংগৃহীত

যানজট আর মানুষের ভিড়ে চিরচেনা ব্যস্ত ঢাকায় ঈদের দিনে যেন নেমে এসেছে এক অন্যরকম নীরবতা। কোলাহলহীন সড়ক, ফাঁকা পথঘাট আর স্বস্তির নিঃশ্বাস—সব মিলিয়ে রাজধানীজুড়ে বিরল এক দৃশ্যের জন্ম দিয়েছে এবারের ঈদ।

শনিবার (২১ মার্চ) মতিঝিল, গুলিস্তান, বাড্ডা, মালিবাগ, কমলাপুর ও মুগদাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রধান সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য। হাতে গোনা কিছু মানুষ নতুন পোশাক পরে হাঁটাহাঁটি করছেন। মাঝেমধ্যে কয়েকটি প্রাইভেটকার চোখে পড়লেও বাসের সংখ্যা খুবই কম, আর যেগুলো চলছে সেগুলোতেও যাত্রী নেই বললেই চলে। তবে রিকশা ও সিএনজির উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি।

তবে এই স্বস্তির মধ্যেও রয়েছে ভোগান্তির অভিযোগ। অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, স্বল্প দূরত্বেও রিকশা ও সিএনজি চালকরা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া নিচ্ছেন। চালকদের দাবি, ঈদের দিন হওয়ায় কিছুটা বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, যদিও অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ তারা পুরোপুরি স্বীকার করেননি।

ফার্মগেট এলাকার বাসিন্দা সবুর আহমাদ বলেন, “আজকের ঢাকা যেন একদম অন্যরকম—নেই ভিড়, নেই যানজট। এমন ঢাকা যদি সবসময় থাকত, কতই না ভালো লাগত!”

অন্যদিকে গোলাম মা’বুদ নামের একজন জানান, উত্তরা থেকে মুগদা পর্যন্ত বাসে আসতে সময় লেগেছে মাত্র ২০ মিনিট, যা সাধারণ দিনে কল্পনাও করা যায় না। তিনি বলেন, “দুই দিন পরই আবার সব আগের মতো হয়ে যাবে। এই ফাঁকা ঢাকা আর থাকবে না।”

মুগদা বিশ্বরোড এলাকায় যাত্রীশূন্য বাস নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন রাইদা পরিবহনের চালক মো. জসিম। হতাশ কণ্ঠে তিনি বলেন, “যাত্রী নাই, তেল খরচই উঠবে কিনা সন্দেহ। একটু বেশি ভাড়া চাইলে যাত্রীরা রেগে যায়।”

মতিঝিল এলাকায় অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে এক যাত্রীর সঙ্গে সিএনজি চালকের বাকবিতণ্ডাও দেখা যায়। মো. হিরন নামের ওই যাত্রী অভিযোগ করেন, আগে যেখানে ১৫০-২০০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩০০-৩৫০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। তার প্রশ্ন, “যানজট নেই, রাস্তা ফাঁকা—তাহলে ভাড়া বাড়বে কেন?”

এ বিষয়ে সিএনজি চালক সোহেল বলেন, “ঈদের সময় মানুষ কম, আয়ও কম। জমার টাকা তুলতে হয়, তাই কিছুটা বেশি ভাড়া চাইতেই হয়।”

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে নগরবাসীর বড় অংশ গ্রামে চলে যাওয়ায় ঢাকার ব্যস্ত সড়কগুলো এখন প্রায় জনশূন্য। কর্মব্যস্ত এই শহর যেন হঠাৎ করেই থেমে গেছে—না আছে চিরচেনা কোলাহল, না আছে যানজটের দীর্ঘশ্বাস। তবে এই নীরবতা ক্ষণস্থায়ী—ছুটি শেষে আবারও পুরনো রূপে ফিরবে ব্যস্ত মহানগরী।

আরবিএ/আরটিএনএন