ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কয়েকজন আলোচিত ও প্রভাবশালী প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শক্ত ঘাঁটি ও পরিচিত মুখ থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভোটারদের রায়ে বদলে গেছে অনেক আসনের হিসাব। খুলনা থেকে ঢাকা, বরিশাল থেকে কক্সবাজার—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের হারিয়ে নতুন বার্তা দিয়েছেন ভোটাররা।
খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ আসনে বিএনপির সাবেক নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী পরাজিত হয়েছেন। এছাড়া এনসিপির সারজিস আলম, জামায়াত নেতা ড. হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, ফুটবলার আমিনুল হকসহ আরও কয়েকজন আলোচিত প্রার্থী হেরে গেছেন।
লড়াই শেষে মামুনুল হকের পরাজয়
ঢাকা-১৩ (মোহাম্মদপুর–আদাবর–শ্যামলী) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭ ভোট। রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ২ হাজার ৩২০।
১৩৯টি কেন্দ্রের ফল প্রকাশের সময় থেকেই দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যায়। আসনটিতে মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
দুই আসনেই হেরে গেলেন ফয়জুল করীম
বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬—দুই আসনেই পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।
বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। হাতপাখা প্রতীকের ফয়জুল করীম পান ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
অন্যদিকে বরিশাল-৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আবুল হোসেন খান ৮১ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে থাকেন। সেখানে ফয়জুল করীম পান ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট।
জামায়াত নেতা আযাদের পরাজয়
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ পরাজিত হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকের আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। আযাদ পান ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৩৫ হাজার ৬২৮।
ফুটবলার আমিনুল হকের হার
ঢাকা-১৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক পান ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট। তবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন ৮৬ হাজার ৮২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
সারজিস আলমও হেরে গেলেন
পঞ্চগড়-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে জয় পান। এনসিপির সারজিস আলম পান ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। দুই প্রার্থীর ব্যবধান ৮ হাজার ৩০৪ ভোট।
কৃষ্ণ নন্দীর বড় ব্যবধানে পরাজয়
খুলনা-১ আসনে আলোচিত জামায়াত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী ৫০ হাজারের বেশি ভোটে হেরে যান। বিএনপির আমির এজাজ খান পান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট, আর কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ব্যবধান ৫১ হাজার ৬।
নজরুল ইসলাম মঞ্জুর হার
খুলনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে বিজয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পান ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট, আর ধানের শীষ প্রতীকে নজরুল ইসলাম মঞ্জু পান ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট।
জিততে পারলেন না মিয়া গোলাম পরওয়ার
খুলনা-৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট পেলেও বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগারের কাছে পরাজিত হন। বিজয়ী প্রার্থী পান ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পরাজয়
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। এনসিপির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী পান ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট।
তাসনিম জারার হার
ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির হাবিবুর রশিদ ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এনসিপির জাবেদ মিয়া পান ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পান ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট।
এ দিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র পরিচিতি বা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নয়—ভোটারদের নতুন ভাবনা ও স্থানীয় সমীকরণই নির্ধারণ করেছে অনেক আসনের ফলাফল। বহু হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয় ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!