ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো জাতীয় পার্টির সম্পূর্ণ ভরাডুবি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনও না কোনও আসনে প্রতিনিধিত্ব রাখা দলটি এবার প্রথমবারের মতো কোন আসন পায়নি। তিন দশকের রাজনৈতিক পথচলায় এমন পরিণতি দলটির জন্য এক নজিরবিহীন অধ্যায়।
১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণঅভ্যুত্থানে জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এর মধ্য দিয়েই দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। এরপর গত প্রায় তিন দশকে নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জোট রাজনীতির ভেতর দিয়ে দেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে আরও আটটি জাতীয় নির্বাচন। এই দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে ছিল। কখনও এককভাবে, কখনও জোটে দলটি সংসদে প্রতিনিধিত্ব ধরে রেখেছে। কিন্তু ত্রয়োদশ নির্বাচনে এসে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে গেল।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার ১৮ মাস পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি। সর্বশেষ ২৯৯টি আসনে নির্বাচন হয় এবার আর শক্ত অবস্থানে আছে বিএনপি জোট, এরপর দ্রীতিয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াত জোট এবং বাকি আস্নগুলোউ ১২টিতে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য প্রার্থী।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ২৫৮টি আসনে প্রার্থী দিলেও একটিতেও জয় পায়নি। এটি দলটির ইতিহাসে প্রথম। রাজনৈতিক উত্থান-পতনের বহু অধ্যায় পার করেও এমন শূন্যতা আগে দেখেনি দলটি।
জাতীয় পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রংপুর বিভাগেও এবার ভরাডুবি ঘটে। রংপুর-৩ আসনে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের তৃতীয় হয়েছেন। একসময় এই আসন থেকেই তিনি সংসদে গিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একইভাবে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ আসনে তৃতীয় স্থানে থেকে পরাজিত হন। রংপুর বিভাগের ছয়টি আসনের পাঁচটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত এবং একটি আসনে এনসিপি। জাতীয় পার্টির জন্য এটি ছিল প্রতীকী ও বাস্তব দুই অর্থেই বড় ধস।
১৯৮৬ সালের ১ জানুয়ারি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সামরিক শাসনকে বেসামরিক রূপ দিতে জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার দুই বছরের মধ্যে দলটি দুটি সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে। তবে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দলটি আর আগের আধিপত্য ফিরে পায়নি।
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট সরকারে অংশ নেয় এবং ২০১৪ সালের পর সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন জোটে অংশ নেয়ার কারণে ‘দ্বৈত ভূমিকা’ ও ‘গৃহপালিত বিরোধী দল’তকমাও পায়।
এরশাদের মৃত্যুর পর নেতৃত্ব সংকট ও বিভক্তি দলটিকে আরও দুর্বল করে। বর্তমানে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) নামে নিবন্ধিত দলটি দুই ভাগে বিভক্ত একটির নেতৃত্বে জিএম কাদের ও শামীম হায়দার পাটোয়ারী, অন্যটির নেতৃত্বে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে অনুষ্ঠিত তৃতীয় এবং সর্বশেষ নির্বাচন। বিএনপি এই নির্বাচনটি বর্জন করে এবং একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারো বিজয়ী হয়। ওই বছরেই ২০২৪ সালের ৫ই অগাস্ট এক গণঅভ্যুত্থানে দলটি ক্ষমতাচ্যুত হয়। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করায় দেশের অন্যতম প্রধান দল আওয়ামী লীগ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। সবমিলিয়ে বলা যায় বাংলাদেশের জন্য নতুন নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!