বিএনপির কমিটি
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার।   আরটিএনএননিউজ

​পাবনার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির পরাজয়ের জন্য জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে দায়ী করেছেন দলটির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার। একইসঙ্গে হাবিবের নেতৃত্বাধীন বর্তমান জেলা বিএনপি কমিটি ভেঙে দিয়ে বিএনপি নেতাদের দিয়ে বিএনপির কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন। তার অভিযোগ, এখন বিএনপির নেতৃত্বে বিএনপি নাই। অপশক্তিরা আজ বিএনপির নেতৃত্বে আছে।

​শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশীতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলাম সরদার এসব অভিযোগ করেন।

​সাবেক এই এমপি অভিযোগ করে বলেন, "জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তৃণমূল পর্যায়ে দলের চেইন অব কমান্ড ধ্বংস করেছেন। ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের কোণঠাসা করে বহিরাগত ও অযোগ্যদের দিয়ে পকেট কমিটি গঠন করেছেন। তাঁর সৃষ্টি করা অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণেই নিশ্চিত জয়ের পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপিকে হারতে হয়েছে। এমনকি তিনি নিজের আসনেও দলের বিভক্তির কারণে পরাজিত হয়েছেন।"

​সংবাদ সম্মেলনে পাবনা-৪ আসনে হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ এনে সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, হাবিব আওয়ামীলীগের সৃষ্টি, তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে ১৯৯১ সালে ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। সে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই তিনি গত ২০ বছর ধরে বিএনপি ধ্বংসের চক্রান্ত করে আসছেন।

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে ঈশ্বরদী ও সংলগ্ন এলাকায় ‘অপরাধের স্বর্গরাজ্য’ গড়ে তোলা তুলেছেন হাবিব-এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, "হাবিবের বাহিনী সাহাপুর, সলিমপুর ও লক্ষ্মীকুণ্ডাসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ বালুমহাল দখল করেছে। অস্ত্রের মহড়ায় এলাকাগুলো এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।"

​লিখিত বক্তব্যে আরও জানানো হয়, জনৈক ‘কাকন বাহিনী’, ‘মক্কেল কসাই’ ও ‘হামদু মেম্বর’ বাহিনীর মাধ্যমে ৫৩টি ইটভাটা এবং গ্রিনসিটি এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি ও সম্পদ লুটের ঘটনা ঘটছে। এছাড়া বিএনপি নেতা খালেক মেম্বর ও আনিস বিশ্বাস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সাথে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে জনগণের কাছে হাবিব প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

​সিরাজুল ইসলাম সরদার বর্তমান জেলা কমিটিকে ‘ফ্যাসিবাদী ধারার’ ধারক হিসেবে উল্লেখ করে বিতর্কিতদের বাদ দিতে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় হাই কমান্ডের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

​এসব অভিযোগের বিষয়ে পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তাঁর তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, ’বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় পাবনার ৩ ও ৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। বিদ্রোহীরা দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা শোনেননি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কার হয়েছেন। সিরাজ সরদার সাহেব যা বলেছেন সেটা তার ব্যাক্তিগত মতামত। এ নিয়ে আমাদের দলের পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য নেই।