গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল, খেলাফত মজলিসের প্রতিবাদ
গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল, খেলাফত মজলিসের প্রতিবাদ।   ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি সরকারের গণভোট-২০২৫, গুম প্রতিরোধ, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং বিচার বিভাগ সংস্কারসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে খেলাফত মজলিস। সংগঠনটি মনে করে, এই পদক্ষেপগুলো দেশকে পুনরায় ফ্যাসিবাদী শাসনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং এটি একটি জনবিরোধী অবস্থান।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশনে এসব বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। 

মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের ওপর পাঁচটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ প্রসঙ্গ

সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অস্বীকার করে সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে অবজ্ঞা করছে। তারা অভিযোগ করেন, এই সনদে বিএনপির স্বাক্ষর থাকলেও এখন তারা ভিন্নমতের অজুহাতে সংসদীয় সংশোধন চাইছে, যা মূলত গণভোটে দেওয়া জনরায়ের বিরোধিতা। অবিলম্বে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট

অধিবেশনে জ্বালানি খাতের বিশৃঙ্খলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশে মজুদদাররা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলে অভিযোগ করা হয়। বিশেষ করে এলপিজি গ্যাসের মূল্য এক লাফে ৩৮৭ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে দাম কমানোর দাবি জানান। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র ও আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা এবং সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার

দেশের স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতা নিয়ে আলোচনায় বলা হয়, সঠিক সময়ে টিকা না দেওয়ায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রকোপ বাড়ছে এবং গত মাসে ৩২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মশার উপদ্রব বাড়লেও স্থানীয় সরকার প্রশাসকদের নিষ্ক্রিয়তায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে অভিহিত করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচন

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া এবং কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।

আন্তর্জাতিক ও সীমান্ত পরিস্থিতি

ইরান ও লেবাননে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অধিবেশনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকার এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত কোনো প্রতিবাদ জানায়নি। এছাড়া সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশী হত্যা এবং ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যবৃন্দ। সভায় প্রয়াত নেতাকর্মী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়।