ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।   ছবি: সংগৃহীত

সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির সাম্প্রতিক অবস্থানে জাতি আশাহত হয়েছে বলে কঠোর সমালোচনা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংস্কারবিরোধী অবস্থান নিয়ে বিএনপি জনগণের প্রত্যাশাকে ধূলিসাৎ করেছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল নতুন সংসদের ওপর। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, গণভোট অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ও পুলিশ কমিশন গঠনের অধ্যাদেশসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ কার্যকারিতা হারাতে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত মোট সাতটি অধ্যাদেশ রহিত করে বিএনপি “স্বৈরতান্ত্রিক ধারার পুনরাবৃত্তি” ঘটিয়েছে বলে দাবি করা হয়।

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, যেসব অধ্যাদেশ স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে সহায়ক হতে পারত, সেগুলো বাতিল করে বিএনপি কার্যত পতিত আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গুম প্রতিরোধ এবং পুলিশ সংস্কারের মতো সর্বজনস্বীকৃত বিষয়েও বিএনপি বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। এমনকি গণভোট অধ্যাদেশকে ‘জাতীয় প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা রাজনৈতিকভাবে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, বাতিল হওয়া অধ্যাদেশগুলোর পরিবর্তে দ্রুত শক্তিশালী ও কার্যকর আইন প্রণয়ন না করলে জনগণ নিজেরাই তাদের দাবি আদায়ে পথে নামবে।

তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী অধিবেশনেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারমূলক আইন ও বিল উত্থাপন করে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।