বাংলাদেশের ফুটবল তারকা হামজা চৌধুরী
বাংলাদেশের ফুটবল তারকা হামজা চৌধুরী   ছবি: সংগৃহীত

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টার সিটির হয়ে খেলতে গিয়ে ডান হাঁটুতে চোট পেয়েছেন বাংলাদেশের ফুটবল তারকা হামজা চৌধুরী। গত শনিবার চার্লটন অ্যাথলেটিকের বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়েন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। মাঠে কিছুক্ষণ ব্যথা সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলা চালিয়ে যেতে না পারায় ম্যাচের ২৯ মিনিটে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ম্যাচ শেষে তাকে ক্রাচে ভর দিয়ে মাঠ ছাড়তেও দেখা যায়, যা চোটের গুরুতর হওয়ার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, হামজার ডান হাঁটুর মিডিয়াল কল্যাটারাল লিগামেন্টে (এমসিএল) চোট লেগেছে এবং এর জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়, দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে লেস্টার সিটির অধিনায়ককে। ম্যাচ শেষে লেস্টার সিটির কোচও চোটের গভীরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হামজাকে হাঁটুর ব্রেস পরা অবস্থায় দেখা গেছে এবং তা দ্রুত সেরে ওঠার মতো মনে হয়নি। এসব মন্তব্যে চোটের বিষয়টি আরও গুরুতর বলেই ধারণা করা হচ্ছিল।

প্রিয় ফুটবলারের এমন অবস্থায় বাংলাদেশের ফুটবলভক্তদের মাঝেও দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়ে। হামজার চোট কতটা ভয়াবহ, মাঠে ফিরতে কত দিন লাগবে, আর সামনে জাতীয় দলের ম্যাচগুলোতে তাকে পাওয়া যাবে কি না এসব প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে সমর্থকদের মনে। বিশেষ করে আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

তবে অবশেষে স্বস্তির খবর এসেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) হামজার চোটের স্ক্যান রিপোর্টে বড় কোনো জটিলতা বা চিড় ধরা পড়েনি। চিকিৎসকদের মতে, চোট গুরুতর হলেও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নেই। ছয় থেকে আট সপ্তাহের পুনর্বাসন (রিহ্যাব) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মাঠে ফেরার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ফলে সার্জারি ছাড়াই নির্ধারিত রিহ্যাব প্রোগ্রামের মধ্য দিয়েই সুস্থ হয়ে উঠবেন হামজা।

আগামী ৩১ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে হাভিয়ের কাবরেরার দল। তার আগে ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথাও রয়েছে বাংলাদেশ দলের। এই সূচি অনুযায়ী, জাতীয় দলের জন্য সময় পাওয়া নিয়ে খুব একটা শঙ্কা নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

চিকিৎসক ও ক্লাব সূত্রের আশাবাদ অনুযায়ী, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে হামজা মার্চের তৃতীয় অথবা শেষ সপ্তাহে মাঠে ফিরতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মার্চ মাসেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে আবার দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সুখবর সবচেয়ে বেশি স্বস্তি এনে দিয়েছে লেস্টার সিটি ও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের শিবিরে।