হাতে ট্রফি তুলে ধরার সেই স্বর্গছোঁয়া মুহূর্ত এখন ইতিহাসের পাতায় বন্দি। কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বসেরার মুকুট জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বজয়ের উচ্ছ্বাস এখনো ফুরিয়ে যায়নি আলবিসেলেস্তেদের শিবিরে।
বরং নতুন লক্ষ্য আরও বড় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রস্তুতির আনুষ্ঠানিক প্রথম ধাপ হিসেবে নিজেদের বেসক্যাম্পের অবস্থান ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটিকে টুর্নামেন্ট চলাকালীন নিজেদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে বেছে নিয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লিওনেল মেসি ও তার সতীর্থদের বিশ্বকাপের ঠিকানা হবে কানসাস সিটির আধুনিক ‘কম্পাস মিনেরালস ন্যাশনাল পারফরম্যান্স সেন্টার’। এখান থেকেই পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে অনুশীলন, ম্যাচের প্রস্তুতি, বিশ্রাম ও অন্যান্য লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে লিওনেল স্কালোনির দল।
এই পারফরম্যান্স সেন্টারটি মূলত মেজর লিগ সকারের ক্লাব স্পোর্টিং কানসাস সিটির অনুশীলন ঘাঁটি। আন্তর্জাতিক মানের একাধিক ট্রেনিং পিচ, অত্যাধুনিক জিমনেশিয়াম, খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত রিকভারি সুবিধা এবং পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল সাপোর্ট থাকায় বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং টুর্নামেন্টে এটি আদর্শ একটি কেন্দ্র বলে মনে করছে এএফএ।
কানসাস সিটিকে বেসক্যাম্প হিসেবে বেছে নেয়ার পেছনে রয়েছে স্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনা। যুক্তরাষ্ট্রের ভৌগোলিকভাবে কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করায় এখান থেকে বিভিন্ন ম্যাচ ভেন্যুতে যাতায়াত তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। একই সঙ্গে শহরটি তুলনামূলক কম জনবহুল হওয়ায় যানজটের ঝামেলা কম, নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা সহজ এবং আবহাওয়া অনুশীলনের জন্য বেশ সহনীয়।
এসব বিষয় খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এমন বিশ্বাস থেকেই কানসাস সিটিকে নিজেদের ‘দুর্গ’ হিসেবে চূড়ান্ত করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দলের হোটেল কিংবা চূড়ান্ত অনুশীলন সূচি প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে কানসাস সিটির বিখ্যাত অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শিরোপা রক্ষার অভিযান শুরু করবে আর্জেন্টিনা। নিজেদের বেসক্যাম্পের শহরেই প্রথম ম্যাচ খেলতে নামায় বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও সুবিধা পাবে মেসিরা। এরপর গ্রুপপর্বের বাকি দুই ম্যাচে স্কালোনির দল মুখোমুখি হবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের।
যদিও ফিফা এখনো দলগুলোর নির্দিষ্ট ভেন্যুতে পৌঁছানোর সময়সূচি কিংবা চূড়ান্ত প্রস্তুতি পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি, তবে ধারণা করা হচ্ছে জুনের শুরুতেই উত্তর আমেরিকায় প্রস্তুতি সফর শুরু করবে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের আগে অন্তত দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
এর পাশাপাশি ২৭ মার্চ স্পেনের বিপক্ষে বহুল আলোচিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটিকে বিশ্বকাপ প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে দেখছে আর্জেন্টিনা শিবির। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়নদের এই লড়াই স্কালোনির দলের শক্তিমত্তা যাচাইয়ের বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে।
সবকিছু ঠিক থাকলে মে মাসেই ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। আর তার আগেই কানসাস সিটির এই বেসক্যাম্প থেকেই শুরু হবে শিরোপা রক্ষার নতুন স্বপ্নের যাত্রা যেখানে নেতৃত্বে থাকবেন লিওনেল মেসি, আর তার পেছনে থাকবে পুরো আর্জেন্টিনার অগাধ প্রত্যাশা ও বিশ্বাস।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!