কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে বড় পরিসরে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজন। দ্বিতীয় দফায় প্রতিষ্ঠানটি ১৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করছে, যা গত তিন মাসের মধ্যে অ্যামাজনের আরেকটি বড় ছাঁটাই সিদ্ধান্ত।
বুধবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে অ্যামাজন জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততর করা এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অ্যামাজনের মানবসম্পদ বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বেথ গালেত্তি বলেন,
‘আমরা সংগঠনের স্তর কমানো, দায়িত্ববোধ বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাঠামো সরল করে আরও শক্তিশালী একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে কাজ করছি।’
এর আগে গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে অ্যামাজন ১৪ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছিল। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসির লক্ষ্য অ্যামাজনকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপের মতো’ পরিচালনা করা। দ্রুত পরিবর্তনশীল এআই ও প্রযুক্তি বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যামাজন বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম বেসরকারি নিয়োগদাতা। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সমান কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশনে (ইইওসি) জমা দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির করপোরেট কর্মীর সংখ্যা সাড়ে তিন লাখেরও বেশি। সাম্প্রতিক দুই দফার ছাঁটাই মিলিয়ে মোট অফিস কর্মীর প্রায় ৯ শতাংশ চাকরি হারাচ্ছেন।
তবে বেথ গালেত্তি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই ছাঁটাই কোনো ‘নতুন স্বাভাবিক ধারা’ হয়ে উঠবে না।
তার ভাষায়, ‘আমরা নিয়মিতভাবে কাজের গতি এবং গ্রাহকদের জন্য উদ্ভাবনের সক্ষমতা পর্যালোচনা করব এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনব।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, ভবিষ্যতে অ্যামাজনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু খাতে কৌশলগতভাবে নতুন নিয়োগও দেওয়া হবে।
এআই খাতে বর্তমানে অ্যামাজনের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা ও ওপেনএআইসহ একাধিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতা গড়ে তুলতে এসব প্রতিষ্ঠান বিপুল বিনিয়োগ করছে। সিইও অ্যান্ডি জ্যাসির মতে, এই ছাঁটাই ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নয়; বরং এটি দক্ষতা ও কর্মদক্ষতা বাড়ানোর একটি কৌশলগত অংশ।
বিভিন্ন বিভাগে বুধবার থেকেই ছাঁটাই কার্যকর হচ্ছে। অধিকাংশ কর্মীকে অভ্যন্তরীণভাবে নতুন পদ খোঁজার জন্য ৯০ দিনের সময় দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ে যারা নতুন পদে যোগ দিতে পারবেন না, তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ ও অতিরিক্ত সুবিধার ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছে অ্যামাজন।
এদিকে বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ভ্যানগার্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইয়ের কারণে চাকরি বাজারে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা আপাতত অতিরঞ্জিত। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এআই প্রযুক্তির ফলে কিছু এন্ট্রি-লেভেল কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!