আধুনিক জীবনে প্রযুক্তি এখন অবিচ্ছেদ্য অংশ। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট কিংবা কম্পিউটার ছাড়া দৈনন্দিন কাজ কল্পনাই করা যায় না। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, বিনোদন বা যোগাযোগ সবকিছুই এখন ডিজিটাল নির্ভর। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পর্দার সঙ্গেই যেন আমাদের সময় কাটে।
তবে জীবনকে সহজ করার এই প্রযুক্তি যখন অজান্তেই আমাদের আচরণ ও অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন সেটি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না, কখন স্বাভাবিক ব্যবহার ধীরে ধীরে আসক্তিতে রূপ নিচ্ছে। অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারে স্বভাবগত যে পরিবর্তনগুলো দেখা দেয়, সেগুলো আগেভাগে চেনা জরুরি।
প্রযুক্তি আসক্তির সাধারণ লক্ষণগুলো.....
দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও শারীরিক অস্বস্তি
অতিরিক্ত সময় স্ক্রিনের সামনে কাটালে শরীরে অস্বাভাবিক ক্লান্তি জমে। চোখ জ্বালা করা, চোখ ভারী লাগা, মাথাব্যথা কিংবা সারাক্ষণ অবসন্ন অনুভব করা এর সাধারণ লক্ষণ। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি এই সমস্যা কাটে না, তবে সেটি প্রযুক্তি নির্ভরতার ইঙ্গিত হতে পারে।
ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হওয়া
রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার এখন অনেকের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, ফলে সহজে ঘুম আসে না। নিয়মিত এমন হলে ঘুমের মান কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে দিনের কাজ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর।
মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা
কোনো কাজে বসেও বারবার ফোন চেক করা, অপ্রয়োজনে নোটিফিকেশন দেখা কিংবা এক কাজ শেষ না করেই অন্য কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া প্রযুক্তি আসক্তির স্পষ্ট লক্ষণ। এতে কাজের গতি ও দক্ষতা কমে যায়, পাশাপাশি মনে তৈরি হয় অস্থিরতা।
মেজাজ খিটখিটে হওয়া ও মানসিক চাপ দীর্ঘ সময় পর্দায় ডুবে থাকলে অনেকের মধ্যেই বিরক্তি, অস্থিরতা কিংবা সামান্য কারণেই রেগে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। সোশ্যাল প্রযুক্তির ছায়ায় বদলে যাচ্ছে আমাদের স্বভাব মিডিয়ায় অন্যদের সাজানো জীবনের সঙ্গে নিজের তুলনা থেকেও হতাশা ও চাপ তৈরি হতে পারে, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আনন্দ কমিয়ে দেয়।
সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হওয়া
প্রযুক্তি আসক্তির সবচেয়ে ক্ষতিকর দিকগুলোর একটি হলো সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলার বদলে ভার্চুয়াল জগতে সময় কাটানো অনেকের কাছে বেশি স্বস্তির মনে হয়। এতে একসঙ্গে থেকেও যোগাযোগ কমে যায় এবং আবেগের দূরত্ব বাড়তে থাকে, যা দীর্ঘমেয়াদে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সিমু/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!