রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরি থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়ার পাঁচ দিন পর রেজাউল শিকদার (৩৫) নামের এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার নৌ-পুলিশ। সে গোয়ালন্দ উপজেলার বাহির দৌলতদিয়া শাহাদৎ মেম্বারপাড়ার বাসিন্দা ও একই এলাকার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারী) সকালে নৌ-পুলিশ ও নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। রবিবার রাতে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের সেলিমপুর চর এলাকা থেকে মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়।
রেজাউলের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার জানান, গতকাল রাত আটটার দিকে এক ব্যক্তি তাঁর মুঠোফোনে ফরিদপুরের নর্থচ্যানেলের ওই এলাকায় একটি লাশ ভেসে ওঠার খবর দেন। পরে স্বজনেরা ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন। লাশের পরনে থাকা নীল জিনস প্যান্ট, নীল শার্ট ও পকেটে থাকা কাগজপত্র দেখে তাঁরা রেজাউলের পরিচয় নিশ্চিত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিঅ্যান্ডবি ঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক নাসিম আহম্মেদ বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন খবর দেন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে লাশ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। কয়েক দিন পানিতে থাকার কারণে লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ফরিদপুরে হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
উল্লেখ্য,গত মঙ্গলবার বিকেলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে একটি ফেরির পন্টুনে জুয়াড়ি চক্রের কয়েকজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রেজাউল পদ্মা নদীতে লাফ দেন। তবে পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
নিখোঁজের পর ফায়ার সার্ভিস ও ডুবুরি দল দুই দিন ধরে উদ্ধার অভিযান চালালেও রেজাউলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রেজাউলের বড় ভাই হারুন শিকদার ও রবিউল শিকদার দাবি করেন, জমি নিয়ে স্থানীয় একটি পরিবারের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে মামলা হয়েছে এবং তাঁরা জেলও খেটেছেন। তাঁদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবে রেজাউলকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারণ, নদীতে লাফ দেওয়া অন্য যাত্রীকে টেনে তোলা হলেও রেজাউলকে ইচ্ছাকৃতভাবে উদ্ধার করা হয়নি।
দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে এক যাত্রীর সঙ্গে জুয়াড়িদের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রেজাউল শিকদার নদীতে লাফ দেন। তাঁকে ধরতে ওই যাত্রীও নদীতে লাফ দেন। এ সময় যাত্রীকে টেনে তুলতে পারলেও রেজাউলের সন্ধান পাওয়া যায়নি। যাত্রীটি ওই ফেরিতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় চলে যাওয়ায় তাঁকেও পাওয়া যায়নি। এর পাঁচ দিন পর গতকাল রাতে তাঁর লাশ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পরিবারকে জানানো হয়। পরে তাঁরা লাশটি রেজাউলের বলে শনাক্ত করেন।
ওসি আরও বলেন, রেজাউল শিকদারের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪টি মাদক মামলা, মানিকগঞ্জ ও গোয়ালন্দ দুটি ছিনতাই এবং গোয়ালন্দে একটি জুয়া আইনে মামলা আছে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!