চুয়াডাঙ্গা-১ আসনকে ঘিরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উত্তাপ। গ্রাম থেকে শহর চায়ের দোকান, হাট-বাজার, মাঠঘাট কিংবা মেঠোপথ সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, কে হচ্ছেন আগামী দিনের কাণ্ডারি? গ্রামের মানুষ তাকিয়ে আছে শহরের রাজনীতির দিকে, আর শহরের আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামীণ জনপদে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আংশিক ও আলমডাঙ্গা উপাজেলা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাভ ৬ হাজার ৬১৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৫ জন। নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৬১৫ জন। এছাড়াও হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৭ জন।
চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্ববৃহৎ উপজেলা আলমডাঙ্গা। একটি প্রথম শ্রেণির পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬১ হাজার ৬১ জন এবং নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ১৬৪ জন। এই বিপুল ভোটারই চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এবারের নির্বাচনে এই আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে প্রার্থী হয়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। জামায়াতে ইসলামী মনোনয়ন দিয়েছে জেলা জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলকে।
এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মাওলানা জহুরুল ইসলাম। তবে মূল লড়াইটি গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীই আলমডাঙ্গার সন্তান। বিএনপি প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফের বাড়ি খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামে এবং জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেলের বাড়ি ডাউকি ইউনিয়নের ছত্রপাড়া গ্রামে। উভয়েই নিজেদের আলমডাঙ্গার মাটি ও মানুষের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে রাজপথে একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নেওয়া বিএনপি ও জামায়াত ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এসে পরিণত হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতে। বিএনপি যেখানে মিটিং-মিছিল, জনসভা ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করেছে, সেখানে জামায়াতে ইসলামী ভিন্ন কৌশলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বাস্তব প্রতিশ্রুতি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার বার্তা নিয়ে। গ্রামভিত্তিক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক রাজনীতির বাস্তবতায় বিভক্তির রাজনীতি নতুন মাত্রা পাচ্ছে। কখনো প্রতিপক্ষের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠছে বন্ধু এই সমীকরণও চোখে পড়ছে মাঠে।
তবে ইতিবাচক দিক হলো, প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও বড় ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা নেই। মনোনয়ন উত্তোলন, জমা, প্রতীক বরাদ্দ কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রার্থীদের পারস্পরিক সৌজন্য ও সম্মান প্রদর্শন ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
ইতিহাস বলছে, চুয়াডাঙ্গা-১ আসন দীর্ঘদিন বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০০৮ সালে প্রথমবার আওয়ামী লীগ এই আসন দখল করলেও পরবর্তী সময়ে আইলহাস, জেহালা ও বাড়াদী ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে নাগদাহ, ডাউকি ও কুমারী ইউনিয়নে জামায়াতের প্রার্থীদের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।
মাঠপর্যায়ের জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির একটি সুসংগঠিত ও আদর্শিক ভোটব্যাংক এখনও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কট্টর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে উদার ভাবমূর্তি ও সাংগঠনিক শক্তি বাড়ালেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে। ফলে আওয়ামী লীগের ভোটাররাই এবার ফলাফলের নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এই বাস্তবতায় উভয় দলই আওয়ামী ভোটারদের নিজেদের পক্ষে টানতে নানামুখী কৌশল গ্রহণ করেছে, যা মাঠে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। শেষ পর্যন্ত একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যিনি জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারবেন, তার মাথাতেই উঠবে বিজয়ের মুকুট এই প্রত্যাশায় প্রহর গুনছে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মানুষ।
চুয়াডাঙ্গা ১ ও ২ আসনের রির্টানিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনের দিন নিরাপত্তায় আনসার, পুলিশ ও ডিবি পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র্যাব ও সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকবে। এরমধ্যে ১০ প্লাটুন বিজিবি, ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ৪ প্লাটুন র্যাব ও ৪ প্লাটুন আনসার এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব পালন করবে। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে এবং ২ প্লাটুন রিজার্ভে রাখা হবে। অপরদিকে চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে ৭ প্লাটুন সেনাবাহিনী সক্রিয় থাকবে এবং ২ প্লাটুন রিজার্ভ অবস্থানে থাকবে। প্রতিটি প্লাটুনের সাথে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!