পাবনায় দাদি–নাতনির হত্যার ঘটনায় আটক ২
পাবনায় দাদি–নাতনির হত্যার ঘটনায় আটক ২।   ছবি: সংগৃহীত

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে এখনো হত্যার রহস্য জানাতে পারেনি পুলিশ। 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাদের আটক করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

আটককৃতরা হলেন, ঈশ্বরদী উপজেলার ভবানীপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নুরুল মন্ডলের ছেলে রাব্বি মন্ডল এবং মফেজ্জল হোসেনের ছেলে শরিফুল ইসলাম। তাদের পুলিশি হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
 
নিহত জামিলা খাতুন উপজেলার কালিকাপুর দাখিল মাদ্রাসা দশম শ্রেণীর ছাত্রী ও হাফেজা ছিল। দাদি ও নাতনি একই বাড়িতে তারা দুজনই থাকতেন। কোনো পুরুষ মানুষ বাড়িতে ছিল না। 

এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতের  পর কোনো এক সময় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে তাদের মরদেহ পৃথক স্থানে পাওয়া যায়। 

নিহতরা হলেন, ভবানীপুর উত্তরপাড়ার মৃত নাজিমুদ্দিন খাঁর স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৭০) এবং তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। জামিলার পিতার নাম জয়নাল খাঁ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে কান্নাকাটির শব্দ শুনে স্থানীয়রা বাইরে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা। এ সময় জামিলাকে খুঁজে না পেয়ে চারদিকে অনুসন্ধান শুরু হয়। পরে বাড়ি থেকে কিছু দূরের সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও মরদেহ উদ্ধার করে। 

এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে র‍্যাব, পুলিশ, ডিবি, সিআইডি, ডিএসবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তদন্তে মাঠে নামে।

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই হত্যা রহস্য উদঘাটন হবে।

এদিকে দাদি–নাতনির হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সজন ও প্রতিবেশীরা কেউই বলতে পারছে না, কি এমন কারণে এই হত্যাকাণ্ড। তবে সবাই জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।