চট্টগ্রাম, আতঙ্ক
মাস্ক পরে মুখ ঢেকে এসে সন্ত্রাসীরা গতকাল চট্টগ্রামের চন্দনপুরা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি করে।   ছবি: সিসিটিভির ফুটেজ থেকে পাওয়া

ভারতে অবস্থান করে শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ চট্টগ্রামে তার অপরাধচক্র পরিচালনা করছে—এমন অভিযোগে নগরীজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শুধু শহর নয়, জেলার অন্তত পাঁচটি থানা এলাকাতেও তার অনুসারীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে বসেই তিনি টার্গেট ব্যক্তিদের ফোন ও বার্তার মাধ্যমে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছেন। দাবি পূরণ না হলে দেওয়া হচ্ছে হত্যার হুমকি, এমনকি বাড়িঘরে গিয়েও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত শনিবার সকালে নগরীর চকবাজারের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক এমপি মুজিবুর রহমানের বাসভবনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। ১২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রামে সংঘটিত অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলায় তাকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই যুগ ধরে বিদেশে থেকে চট্টগ্রামের অপরাধ জগত নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। একসময় শিবির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় তিনি ‘শিবির ক্যাডার’ হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামী, বাকলিয়া, চকবাজারসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা এবং হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়াসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে তার চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ আছে। চাঁদাবাজি, মুক্তিপণ আদায়, বালুমহাল ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, নির্মাণসামগ্রী সরবরাহে প্রভাব বিস্তার—এসব কর্মকাণ্ডে তার বাহিনী জড়িত বলে জানায় সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছোট সাজ্জাদ (সাজ্জাদ হোসেন) গত ১৫ মার্চ ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন এবং বর্তমানে কারাগারে আছেন। তার পর থেকে বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছে মোহাম্মদ রায়হান। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। রায়হানসহ আরও কয়েকজন সহযোগী এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১২ জুলাই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে সংঘটিত আলোচিত আট খুনের ঘটনায় বড় সাজ্জাদ যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। পরে জামিনে বের হয়ে তিনি ভারতে পালিয়ে যান বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণসংযোগ) আমিনুর রশীদ জানান, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

ক্রমবর্ধমান এসব ঘটনায় চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।