শিলা বৃষ্টি, ধানের ক্ষতি, বোরো ধান, সারাদেশ, নেত্রকোনা,
শিলা বৃষ্টিতে ।   ছবি: আরটিএনএন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি: জেলার বিভিন্ন এলাকায় শনিবার (১৪ মার্চ) দিবাগত গভীর রাতে আবারও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। রাত প্রায় ১টার দিকে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে শুরু হওয়া এই শিলাবৃষ্টিতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে বোরো ধানের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, এর আগে রাত প্রায় পৌনে ১১টার দিকে প্রথম দফায় বৃষ্টি শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা রূপ নেয় ঝড়ো হাওয়ায়। এরপর শুরু হয় তীব্র শিলাবৃষ্টি, যা প্রায় ৫ থেকে ৭ মিনিট স্থায়ী হয়। সব মিলিয়ে প্রথম দফার বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টি প্রায় ২০ থেকে ২২ মিনিট স্থায়ী ছিল।

জেলার ১০টি উপজেলার প্রায় সব জায়গাতেই ঝড়ো হাওয়া, বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে কলমাকান্দা, দুর্গাপুর, নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা, পূর্বধলা ও মোহনগঞ্জ উপজেলায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের তীব্রতা বেশি ছিল বলে জানা গেছে।

প্রথম দফার পর কিছু সময় আবহাওয়া শান্ত থাকলেও গভীর রাতে আবার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। হঠাৎ দমকা বাতাসের সঙ্গে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার শিলাবৃষ্টি। শিলার শব্দে অনেকের ঘুম ভেঙে যায়। বাড়ির উঠান, রাস্তাঘাট ও টিনের চালের ওপর শিলার টুপটাপ শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।

এদিকে বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধানের থোড় বের হওয়ার সময় চলছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সময় শিলাবৃষ্টি হলে ধানের থোড় ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা ফলনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, রাতের শিলাবৃষ্টিতে ধানের ক্ষতি হয়েছে কি না তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কয়েকদিন পর মাঠে গিয়ে ধানের অবস্থা দেখলেই প্রকৃত ক্ষতির চিত্র বোঝা যাবে।

এক কৃষক বলেন, “ধানের থোড় বের হয়েছে, তাই শিলাবৃষ্টি হলে খুব ভয় লাগে। রাতে আবার শিলা পড়েছে শুনে সবাই দুশ্চিন্তায় আছি। কয়েকদিন পর মাঠে গেলে বোঝা যাবে কতটা ক্ষতি হয়েছে।”

এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টিও হতে পারে।

স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত মাঠ পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।