বিদ্যালয়, আগুন
জয়পুরহাটে মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগুনে পুড়ে ছাই।   ছবি: আরটিএনএন

জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার চক বরকত ইউনিয়নের পল্লীবালা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে আকস্মিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, মাল্টিমিডিয়া কক্ষ প্রতিষ্ঠানের হেড অফিস সহ একাধিক কক্ষ পুড়ে গিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (২৩ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৮টার পর বিদ্যালয়ের ভেতরে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। 

স্থানীয় ও বিদ্যালয়ের কর্মরতরা আগুন দেখতে পেয়ে দ্রুত নেভানোর চেষ্টা চালান। এবং অতিদ্রুততার সাথে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টার চেষ্টা ও এলাকাবাসীর আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের জেলা প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোঃ মাসুদ রানা প্রধান। 

তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ের দেওয়ালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এ অবস্থায় শ্রেণী পাঠদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি বিদ্যালয়ের এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি জেলা প্রশাসন ও সরকারি সহযোগিতায় দ্রুততার সাথে নির্মূল করে অতি দ্রুত শিক্ষার পরিবেশ পুনরায় ফিরিয়ে আনার আশ্বাস জানান বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। 

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, "আগুনে মাল্টিমিডিয়া কক্ষের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, প্রায় ৪৫ সেট বেঞ্চ, শিক্ষা উপকরণসহ শ্রেণি কক্ষগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগুনে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নেই বললেই চলে।"

স্থানীয় ৯ নং চক বরকত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সায়েম মোল্লা জানান, "সকাল ৯টার দিকে তিনি আগুন লাগার খবর পান। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এলাকাবাসীর তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় সামান্য কিছু শিক্ষা উপকরণ, বই-খাতা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যালয়ের।"

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহত না হলেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। যার ফলে আগামী ২৯ তারিখে শ্রেণী পাঠদান কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস করার মত কোন পরিবেশ নেই। 

এমতাবস্থায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি ও জেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতার দিকে মুখিয়ে আছেন অন্যথায় বিদ্যালয়ের এই পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি শুধুমাত্র প্রতিষ্ঠান কর্তৃক পূরণ করা সম্ভব নয়, বলে জানান তারা।