জয়পুরহাটে আরবিপিএল: প্রিয় অঙ্গনে সাবেকদের মিলনমেলায় চ্যাম্পিয়ন ২০১৮ ব্যাচ ।
জয়পুরহাটে আরবিপিএল: প্রিয় অঙ্গনে সাবেকদের মিলনমেলায় চ্যাম্পিয়ন ২০১৮ ব্যাচ ।   ছবি: আরটিএনএন

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রিয় অঙ্গনে অনুষ্ঠিত হলো সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জমজমাট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট—রামদেও বাজলা প্রিমিয়ার লীগ (আরবিপিএল)।

গত ২২ মার্চ শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামে ২৪ মার্চ ফাইনাল ম্যাচের মধ্য দিয়ে। বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১৯টি দল, যেখানে প্রায় দুই শতাধিক খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০১৯ ব্যাচ পর্যন্ত সাবেক শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে এক অনন্য মিলনমেলার সৃষ্টি করেন।

আয়োজকদের মতে, সাবেক শিক্ষার্থীদের আবার একত্রিত করা এবং বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিন পর নিজ নিজ প্রিয় ক্যাম্পাসে ফিরে এসে আবেগঘন মুহূর্ত কাটান অংশগ্রহণকারীরা। ব্যস্ততার মাঝেও অনেকেই এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে ছুটে আসেন প্রিয় অঙ্গনে।

এবারের আসরের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ডে-নাইট ফরম্যাটে ম্যাচ আয়োজন, যা পূর্বের আসরগুলোর তুলনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। আয়োজকদের ভাষায়, প্রতি বছরই দিনভিত্তিক ম্যাচ হলেও এবারের এই নতুন আয়োজন দর্শকদের মাঝে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করেছে।

ফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হয় ২০১৪ ব্যাচ ও ২০১৮ ব্যাচ। উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে ২০১৮ ব্যাচ জয়লাভ করে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অপরদিকে, ২০১৪ ব্যাচ রানার্সআপ হয়, যারা এর আগে তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ছিল।

চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফির পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা এবং রানার্সআপ দলকে ট্রফির সঙ্গে ১৫ হাজার টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়।

টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও ফাইনালে ছিল উপচে পড়া ভিড়। মাঠের চারপাশজুড়ে দর্শকদের ভিড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। খেলার প্রতিটি মুহূর্তে ছিল তুমুল উত্তেজনা, যেখানে দর্শকরা চোখ সরাতে পারেননি মাঠ থেকে।

একজন খেলোয়াড় বলেন, “আমরা এই টুর্নামেন্টটাকে হৃদয় থেকে অনুভব করি। এর মাধ্যমে মনে হয় আমরা আবার আমাদের প্রিয় স্কুলে ফিরে এসেছি। যত ব্যস্ততাই থাকুক, এই আয়োজন মিস করি না।”

দর্শকরাও এই আয়োজনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তাদের মতে, প্রতি বছর এমন আয়োজন হলে তারা আগ্রহ নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন এবং এই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিতে চান।

আয়োজক কমিটির সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এবং নতুনত্ব নিয়ে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তারা আশা করেন, আগামী দিনগুলোতেও সাবেক শিক্ষার্থীরা একইভাবে অংশগ্রহণ করে এই আয়োজনকে আরও সফল করে তুলবেন।

এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন সাফায়েত সুব্বা, আবু রাইহান রাসেল, মুরসালিন আনসারি সানি, মাহমুদুর রহমান মিল্টন এবং এস এম সাফাকাত আজমসহ আয়োজক কমিটির সদস্যরা।