আরামিট লিমিটেড
আরামিট লিমিটেড।   ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন লাভজনক ব্যবসা ও নিয়মিত লভ্যাংশ দিয়ে আসা আরামিট লিমিটেড বড় আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে। মাত্র ৬ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটি গ্রুপের পাঁচটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা পণ্যের বিপরীতে প্রায় ৫২ কোটি টাকা আদায় করতে পারছে না। এরমধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে, আর অন্যটির আর্থিক অবস্থাও নাজুক। ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

কোম্পানিটির ২০২৪–২৫ অর্থবছরের আর্থিক হিসাবে এই তথ‌্য উঠে এসেছে।

নিরীক্ষকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়ামের কাছে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭০ টাকা, আরামিট ফুটওয়্যারের কাছে ৮ কোটি ২৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩২ টাকা, আরামিট পাওয়ারের কাছে ৫ কোটি ৯৬ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২ টাকা, আরামিট স্টিল পাইপসের কাছে ২০ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৮০ টাকা এবং আরামিট অ্যালু কম্পোজিট প্যানেলের কাছে ৮৬ লাখ ৩৬ হাজার ৯৯ টাকা পাওনা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটি ৬৯ লাখ ৫৪ হাজার ৫৭৩ টাকা।

এসব কোম্পানির মধ্যে আরামিট পাওয়ার ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এই কোম্পানিটিরও কয়েক বছর ধরে ইক্যুইটি ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে পাওনা আদায় নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন নিরীক্ষক মাহামুদ সবুজ অ্যান্ড কো.।

অপরদিকে ব্যবসায়িক মন্দার কারণে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আরামিট সিমেন্টের কারখানাও বন্ধ হয়ে যায়। গত বছরের ২২ জুলাই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একটি পরিদর্শক দল সরেজমিনে গিয়ে কারখানাটি বন্ধ পায়। কোম্পানিটির সর্বশেষ আর্থিক হিসাবে দেখা গেছে, গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুলাই ২০২৪–মার্চ ২০২৫) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৯৬ পয়সা।

আরামিট লিমিটেডের আর্থিক হিসাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নর্থ ওয়েস্ট সিকিউরিটিজের মাধ্যমে কোম্পানিটির ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৯৪৯ টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। তবে নিরীক্ষক ব্রোকারেজ হাউজটির পোর্টফোলিওর সঙ্গে এ হিসাবের গরমিল পেয়েছেন। সেখানে ৫৬ হাজার ৯৪৯ টাকার ঘাটতি ধরা পড়েছে।

একসময় লাভজনক ব্যবসা করা আরামিট লিমিটেড এখন লোকসানে পড়েছে। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর ২০২৫) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি মুনাফা ছিল ৪৪ পয়সা। সে হিসাবে মুনাফা থেকে লোকসানে যাওয়ায় পতন হয়েছে ১ টাকা ৬৩ পয়সা বা প্রায় ৩৭০ শতাংশ।

১৯৮৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৬ কোটি টাকা। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানির মোট শেয়ারের ৬০ দশমিক ৭৩ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার। আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ২৫ দশমিক ৭০ শতাংশ শেয়ার।

বুধবার (২৫ মার্চ) সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার ১৭৩ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে।