পদ্মা, বাসডুবি
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   ছবি: আরটিএনএন

পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান সড়ক দুর্ঘটনাকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থ যোগাযোগ ব্যবস্থার ফল বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নিয়মিত বৈঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আজ দেশ ৫৬তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো এখনো প্রাগৈতিহাসিক সময়ের মতোই ভঙ্গুর ও দুর্ঘটনাপ্রবণ রয়ে গেছে। আধুনিক বিশ্বে এ ধরনের দুর্ঘটনা এত ঘনঘন ঘটে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ৫৫ বছরে যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, তাদের সবাইকে এ দায় নিতে হবে।

বৈঠকে বুধবার দৌলতদিয়া ঘাটে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাসহ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

ইসলামী আন্দোলনের আমির আরও বলেন, অতীতে সকল সরকারের ব্যয়ের বড় একটি খাত ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন। কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে গণযোগাযোগ খাত আজ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই খাতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে এবং সব ধরনের সিন্ডিকেট কার্যক্রম কঠোরভাবে দমন করতে হবে।

তিনি গাড়ির ফিটনেস, চালকের লাইসেন্সসহ সংশ্লিষ্ট সকল ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণের ওপর জোর দেন। তার ভাষায়, ‘এসব দুর্ঘটনা আসলে দুর্ঘটনা নয়, বরং পদ্ধতিগত গণহত্যার শামিল।’

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, আলহাজ্ব গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, জিএম রুহুল আমীন ও মুফতি মানসুর আহমেদ সাকি প্রমুখ।