স্বাধীনতা দিবস
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর।   ছবি: আরটিএনএন

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলেক্ষ ইসলামী আন্দোলনের আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম চরমোনাই পীর।

তিনি বলেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ যারা দেশের জন্য জীবন দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছে। তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে স্বাধীনতা অর্জন হলেও ৫৫ বছরে দেশের মানুষ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ পায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের ‘স্বাধীনতার প্রত্যাশা ও জাতীয় জীবনে আমাদের অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে জনআকাঙ্খার বাংলাদেশ গড়ার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়, আমরা সেই আশায় দেশের ইসলামপন্থি দলগুলো নিয়ে একটি সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করে অনেক দূর এগিয়ে যাই। কিন্তু একটি ক্ষমতালোভী গোষ্ঠী সেই সুন্দর পরিবেশকে ধ্বংস করে দিয়ে নিজেরা এককভাবে ক্ষমতার নেশায় মেতে উঠে। তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। 

মানুষের মনে ইসলামের বিষয়ে ভুল বার্তা দিয়ে ইসলাম থেকে দূরে সরানোর পাঁয়তারা করছে। এক পর্যায়ে ক্ষমতার নেশায় আমেরিকা ও ভারতের তাঁবেদারী শুরু করে। অথচ ভারত ও আমেরিকার ইতিহাস মুসলিম বিশ্ব ভালো করেই জানে। আজ গণতন্ত্রের ধ্বাজাধারী আমেরিকা পুরো বিশ্বে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। এই আমেরিকাই বিশ্বে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের সবক শোনাচ্ছে। 

পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, আমেরিকা আন্তর্জাতিক সকল আইন লঙ্ঘন করে ইরানে হামলা করে সে দেশের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। জারজরাষ্ট্র ইসরায়েল যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমরা বলে দিয়েছি দেশ, ইসলাম ও মানবতার ক্যলাণে কাজ করলে আমরা সহযোগিতা করবো। এর ব্যত্যয় করলে আমরা প্রতিবাদ করবো। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশকে ভালভাবে সাজান। নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করুন। খাদ্যে ভেজাল কঠোরভাবে প্রতিহত করুন। মাদকের সয়লাবে নতুন প্রজন্ম ধ্বংস হচ্ছে। কাজেই এসবের বিরুদ্ধে কঠোর হস্তক্ষেপ নিতে হবে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটকে আইনী ভিত্তি দিতে হবে।

প্রিন্সিপাল মাদানী বলেন, ৫৫ বছরে দেশবাসী একটি মানচিত্র ছাড়া আর কিছুই পায়নি। এ দীর্ঘ সময়ে মানুষ নির্বাচনের নামে তামাশা দেখেছে। এবারের নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমঝোতা।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন,উপদেষ্টা সরকার ৩টি দল নিয়ে বিদেশে বার বার সফর করে নির্বাচনী সমঝোতার রোডম্যাপ তৈরি করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারি তার শোয়াফ হয়েছে। তিনি সরকারের মন্ত্রীদের লাগামহীন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রীপরিষদকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানান।

দলের ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, দলের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত জনাব গোলাম মসীহ, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম। বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, যুবনেতা মুফতী মানসুর আহমদ সাকী, এম এইচ মোস্তফা, আব্দুল আউয়াল মজুমদার, ইঞ্জিনিয়ার মুরাদ হোসেন, মুফতী ফরিদুল ইসলাম, মুফতী মাছউদুর রহমান, প্রভাষক শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন পরশ, মুক্তিযোদ্ধা সোলাইমান, এমএম সিফাতুল্লাহ প্রমুখ।