বছরের প্রথম তিন মাসে ক্লাস সীমিত, ছুটির ফাঁদে আটকা শিক্ষার্থীরা, শিক্ষা মন্ত্রনালয়, শিক্ষা, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, প্রাথমিক, স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ,
শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন।   ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বছরের প্রথম তিন মাসে ক্লাসের সময় খুবই সীমিত ছিল। জানুয়ারি মাসে বই বিতরণের দেরি, ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, এরপর রমজান ও ঈদের দীর্ঘ ছুটি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে অংশ নেওয়া ব্যাহত করেছে।

ঢাকার, রাজশাহী, খুলনা, মানিকগঞ্জ ও ঝালকাঠির অন্তত ১০টি বিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৫ দিনে বই বিতরণ ও অন্যান্য কাজে ক্লাস হয়নি। ফেব্রুয়ারি মাসে মাত্র পাঁচ দিন ক্লাস চলেছে এবং মার্চ মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ দিন বন্ধ ছিল।

এপ্রিল ও মে মাসে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন ছুটির কারণে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসের সংখ্যা আরও সীমিত হবে। এপ্রিলের ৩০ দিনে সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসব মিলিয়ে ক্লাস হবে ১৮ দিন এবং মে মাসে ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশের কারণে ক্লাস হবে ১৪ দিন। ফলে এই দুই মাস মিলিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে মাত্র ৩২ দিন, যা পুরো পাঠ্যবইয়ের অর্ধেক পড়ার জন্য যথেষ্ট নয়।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম প্রান্তিক পরীক্ষা ৫ মে থেকে ১৫ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীরা মাত্র ১৮-১৯ দিনের ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলে কিছু বিদ্যালয়ে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারবে না।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের প্রথম দিকে পাঠ্যবই দেরিতে বিতরণ, ক্লাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ ছুটি শিক্ষার্থীদের শেখার মান কমিয়ে দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ছুটি কমিয়ে ক্লাসের দিন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তবে বাস্তবে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান এখনও ব্যাহত হচ্ছে।

আরবিএ/আরটিএনএন