বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান ও তাঁর প্রথম স্ত্রী অমৃতা সিং একসময় ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম আলোচিত জুটি। বয়সের ব্যবধান, ভিন্ন ধর্মীয় পটভূমি এবং তারকাখ্যাতি সবকিছুর মাঝেও তাঁদের প্রেম ও দাম্পত্য জীবন দীর্ঘদিন দর্শকদের কৌতূহলের বিষয় ছিল। বিচ্ছেদের পরেও তাঁদের পারিবারিক গল্প ঘিরে আলোচনার কমতি নেই, বিশেষ করে সন্তানদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে।
পাতৌদি পরিবারের উত্তরাধিকারী সাইফ আলী খান একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিয়ের সময় কিংবা দাম্পত্য জীবনে তিনি কখনোই অমৃতা সিংকে নিজের ধর্ম অনুসরণ করতে বাধ্য করেননি। উল্টো দুজনের মধ্যে একটি স্পষ্ট বোঝাপড়া ছিল ধর্ম যার যার ব্যক্তিগত বিষয়।
সাইফ ও অমৃতার পরিচয় হয়েছিল পরিচালক রাহুল রাওয়াইলের একটি সিনেমার সেটে। প্রথম দেখাতেই অমৃতার প্রতি আকৃষ্ট হন সাইফ। পরিচয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই এক ডিনারের আমন্ত্রণ থেকে তাদের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। সেই ডিনারই ধীরে ধীরে প্রেমের রূপ নেয়।
এক সাক্ষাৎকারে সাইফ স্মৃতিচারণা করে বলেছিলেন, সেই রাতের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্ক নতুন পথে এগোয়। যদিও তাঁর পরিবার, বিশেষ করে মা, তখন এই বিয়ের পক্ষে ছিলেন না। তবু কয়েক মাসের মধ্যেই দুজন বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।
গল্পডিজাইনার আবু জানি ও সন্দ্বীপ খোশলা একবার জানান, বন্ধুদের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ঘরোয়া আয়োজনে সাইফ ও অমৃতার বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেখানে কাজি ও শিখ পুরোহিত দুজনেই উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের সময় অমৃতা নাম পরিবর্তন করে ‘আজিজা’ নাম গ্রহণ করেন।
আবু জানি ও সন্দ্বীপের ভাষ্যে, প্রেমে ডুবে থাকা এই যুগল তখন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যদিও মনে কিছু দ্বিধা ছিল। শেষ পর্যন্ত সব আনুষ্ঠানিকতা শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়।
সাইফ একাধিকবার জানিয়েছেন, অমৃতার ওপর নিজের ধর্ম চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠেনি। সন্তানদের ক্ষেত্রেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, অমৃতা গুরুদুয়ারায় গেলে তিনি সারা ও ইব্রাহিমের দেখাশোনা করতেন।
বিচ্ছেদের সময় সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে স্বীকার করেন সাইফ। তাঁর ভাষায়, তখন সবচেয়ে বেশি চিন্তা ছিল সারা ও ইব্রাহিমকে নিয়ে। তবে অমৃতার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা ছিল এবং তিনি বিশ্বাস করতেন, সন্তানদের বিষয়ে কোনো ভুল প্রভাব পড়তে দেবেন না তিনি।
এই সময়েই সাইফের জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয় কারিনা কাপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ও পরবর্তী সময়ে বিয়ের সিদ্ধান্ত। সাইফ স্পষ্ট করেছিলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
সাইফ ও অমৃতার কন্যা সারা আলী খান একবার টাইমস নাউ সামিটে জানান, ছোটবেলায় তিনি নিজের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্ত ছিলেন। বিদেশ ভ্রমণের সময় পরিবারের ভিন্ন নাম ও পরিচয় তাঁকে ভাবিয়ে তুলত। তখন তিনি মায়ের কাছে প্রশ্ন করেছিলেন, তিনি আসলে কে। উত্তরে অমৃতা সিং বলেছিলেন তিনি একজন ভারতীয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে
সিমু/আরটিএনএন
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!