ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট দিতে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাস সংকট, যানজট এবং অতিরিক্ত ভাড়া প্রদানে অনেকে সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। অনেক যাত্রী বলছেন, ভোট দিতে যাওয়া যেন এখন তাদের জন্য এক বড় ‘শাস্তি’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঢাকা–ময়মনসিংহ রুটে যেখানে সাধারণত ২৫০ টাকার ভাড়া, সেখানে এখন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। বাসের সিট না পেয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে খোলা ট্রাকে উঠছেন। ট্রাকেও জনপ্রতি ৩০০–৪০০ টাকা দিতে হচ্ছে।
ময়মনসিংহের ভোটার জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাসে সিট না পেয়ে পরিবার নিয়ে ট্রাকের পেছনে উঠেছি। রোদে পুড়ছি, ধুলোবালি খাচ্ছি, তবুও ভোট দিতে বাড়ি যেতে হবে। ২৫০ টাকার বদলে ট্রাকেই ৪০০ টাকা দিতে হলো।
বেসরকারি চাকরিজীবী লিয়ন মীর বলেন, বাস ছাড়ার নাম নেই। ভ্যাপসা গরম, রাস্তার জ্যাম আর মালিকরা যেটুকু পারছে সেটা আদায় করছে। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়?
গৃহিণী শামসুন্নাহার মাহমুদা জানান, ছোট শিশু আর বৃদ্ধ মা নিয়ে কোনো বাসে উঠতে পারছি না। ভোট দিতে যাওয়াটা কি আমাদের পাপ?
শ্রমিক ও অন্যান্য যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, বাসের সংখ্যা কম থাকায় হেলপাররা যাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছেন। বেশি ভাড়া না দিলে বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মহাসড়ক ও বাসস্ট্যান্ডে শত শত মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। আব্দুল্লাহপুর থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত ধীরগতির যান চলাচল দেখা গেছে।
বিশেষত শিল্পাঞ্চলের ছুটি শুরু হওয়ায় ভোট দিতে রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরতে মানুষের চাপ বেড়েছে। কিছু বাস মালিক স্বাভাবিক রুট ছেড়ে একাধিক ট্রিপ চালিয়ে অতিরিক্ত আয় করার অভিযোগও উঠেছে।
ব্যাংকার আজমাইন সিকদার বলেন, দুদিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিয়ে পরিবার নিয়ে বের হয়েছি। আশা করেছিলাম জ্যাম কম হবে, কিন্তু ভোগান্তি আরও বেড়ে গেছে।
সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাধারণ ও বিশেষ ছুটি ঘোষণা করেছে। ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি, ১১ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিনও সাধারণ ছুটি থাকবে।
News magazine bootstrap themes!
I like this themes, fast loading and look profesional
Thank you Carlos!
You're welcome!
Please support me with give positive rating!
Yes Sure!